নীরবতা কোনো দুর্বলতা নয়, দ্রুতই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের জোরালো বার্তা দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর এই অনুপস্থিতি বা নীরবতাকে যেন কেউ দুর্বলতা বলে ভুল না করেন। ২০২৪ সালে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ভারতে অবস্থানকালীন সময়ে এই প্রথম তাঁর এমন কঠোর ও কৌশলী রাজনৈতিক অবস্থান সামনে এল, যা দুই দেশের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও প্রত্যাবর্তনের লড়াই
শেখ হাসিনার মতে, তাঁর বাংলাদেশে ফিরে আসা কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়ের ওপর নির্ভর করছে না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে জড়িত। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে শুধু একটি আইনি আদেশে মুছে ফেলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের এই দলটিকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। বর্তমানে কূটনৈতিক স্তর, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো এবং বিশ্ব গণমাধ্যমের সহায়তায় তাঁর দল সক্রিয়ভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বাংলাদেশে বিগত সময়ে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করার পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার প্রতিনিয়ত তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানালেও ভারত এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার এমন প্রকাশ্য বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ভারত-বিরোধী বক্তব্যকে রাজনীতিকরণ করে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা আগামী দিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।