দ্বারকেশ্বর নদের চরে খেলতে গিয়ে সলিলসমাধি দুই শিশুর, বাঁকুড়ায় শোকের ছায়া

খেলার ছলে যে এত বড় বিপর্যয় নেমে আসবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেনি বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার জাগলদ্বীপ গ্রামের রুইদাস পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ির অদূরে দ্বারকেশ্বর নদের চরে খেলতে গিয়েছিল দুই সহোদর— শুভজিৎ রুইদাস (৬) ও সৌমেন রুইদাস (৪)। কিন্তু অন্যদিনের মতো আর বাড়ি ফেরা হলো না তাদের। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদী থেকে উদ্ধার হলো দুই ভাইয়ের নিথর দেহ। একই পরিবারের দুই শিশুর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় এখন গভীর শোকের ছায়া।
অসতর্কতাই ডেকে আনল চরম বিপর্যয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে খাওয়া শেষ করে দুই ভাই দ্বারকেশ্বর নদের চরে খেলাধুলা করছিল। খেলা শেষে বাড়ি ফেরার আগে তারা নদীর জলে হাত-পা ধুতে যায়। ঠিক সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। নদের জলের গভীরতা বুঝতে না পেরে অসতর্কতাবশত দুই ভাই-ই তলিয়ে যায়। ঘটনার সময় আশেপাশে অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কারও নজরে আসেনি।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার মুখে স্থানীয় এক ব্যক্তি যখন ওই নদে স্নান করতে যান, তখন তাঁর পায়ে একটি শিশুর দেহ ঠেকে। এই ঘটনায় তিনি চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন এবং নদীতে তল্লাশি চালিয়ে একে একে দুই ভাইয়ের দেহই উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ইন্দাস থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আজ, বুধবার দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
নদী তীরবর্তী এলাকায় সচেতনতার অভাব ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে প্রাথমিক কারণ হিসেবে শিশুদের অসতর্কতা এবং নদী তীরে বড়দের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত গ্রামীণ এলাকায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলে শিশুরা অবাধে যাতায়াত করে, যার ফলে বর্ষার আগে বা নদীর গভীর অংশগুলোতে এই ধরণের দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। প্রতিবেশীরা এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত। এই ঘটনার পর এলাকায় নদী পাড়ে শিশুদের একা ছাড়ার বিষয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে ঘটনার সময় আশেপাশে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল কি না, যা এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে সাহায্য করতে পারে।