পদ খুইয়েই ক্ষোভপ্রকাশ, এবার তৃণমূল সাংসদ কাকলিকে ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তা দিল কেন্দ্র!

রাজ্য রাজনীতিতে যখন শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট করা হচ্ছে, ঠিক তখনই উল্টো স্রোত দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে আচমকাই তাঁর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই মধ্যমগ্রামে কাকলির বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) জওয়ানদের মোতায়েন হতে দেখা গিয়েছে। এমনকি বিকেলে দলীয় সাংগঠনিক বৈঠকে যাওয়ার সময়ও তাঁর সাথে ছিল কেন্দ্রীয় কনভয়। দলীয় পদ হারানোর পরপরই তাঁর এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার ঘটনাটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বঞ্চনার ক্ষোভ ও রাজনৈতিক দূরত্ব
এই নিরাপত্তা বৃদ্ধির নেপথ্যে সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে সম্প্রতি কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে পুনরায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। পদ হারানোর পরই দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এই প্রবীণ সাংসদ। তিনি লেখেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।” শুধু তিনিই নন, তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারও দলের বিরুদ্ধে একাধিক ‘বিদ্রোহী’ পোস্ট করেন। এই প্রকাশ্য অসন্তোষের পরই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তাঁকে এই বিশেষ ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
জল্পনা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা ফিরহাদ হাকিমের মতো প্রথম সারির নেতাদের নিরাপত্তা ও কনভয় হ্রাস পেয়েছে, তখন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি গভীর রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের প্রতি ক্ষুব্ধ একজন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদকে কেন্দ্রের এই বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান আদতে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এই পদক্ষেপের ফলে শাসকদলের সাথে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে এবং রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের সূত্রপাত হতে পারে।