দোরগোড়ায় বর্ষা কিন্তু প্রস্তুতিতে স্থবিরতা, মেয়র ও কমিশনারের দ্বন্দ্বে কি ভাসবে তিলোত্তমা!

দোরগোড়ায় বর্ষা কিন্তু প্রস্তুতিতে স্থবিরতা, মেয়র ও কমিশনারের দ্বন্দ্বে কি ভাসবে তিলোত্তমা!

আগামী ১০ জুনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা প্রবেশের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অথচ বর্ষা প্রায় দোরগোড়ায় চলে এলেও এখনও পর্যন্ত বর্ষা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে কোনো বৈঠকই হয়নি কলকাতা পুরসভায়। ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখা, রাস্তার ম্যানহোল পরিষ্কার এবং জল জমা রুখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে চরম ধন্দে পড়েছেন পুরসভার আধিকারিকেরা। প্রতি বছর মে মাসের শুরুতেই যেখানে একাধিক প্রস্তুতি বৈঠক সম্পন্ন হয়ে যায়, সেখানে চলতি বছরের এই স্থবিরতা শহরবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করছে।

নবান্ন-পুরসভা সমন্বয়ের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা

পুরসভা সূত্রে খবর, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়ের অভাব প্রকট হয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে বৈঠক করার কথা জানালেও প্রশাসনিক স্তরে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। প্রশাসনের একাংশের মতে, মেয়র ও পুর কমিশনারের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের জেরেই কলকাতা পুরসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দুই শীর্ষ কর্তার মধ্যে মাত্র ১০-১২ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক হলেও, বর্ষা প্রস্তুতির জট আদৌ কেটেছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুধু কলকাতাই নয়, হাওড়া, বিধাননগর, আসানসোল, শিলিগুড়ি ও চন্দননগরের মতো রাজ্যের অন্যান্য বড় পুরসভাগুলোতেও প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দূরত্বের কারণে বর্ষার প্রস্তুতি থমকে রয়েছে।

জলযন্ত্রণা ও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নিকাশি বিভাগের আধিকারিকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করেছে। বর্ষার আগে ম্যানহোল ও গালিপিটগুলো পরিষ্কার না করা হলে সামান্য বৃষ্টিতেই উত্তর ও মধ্য কলকাতার একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ার ইতিহাস রয়েছে। গত বছর শারদোৎসবের আগে মাত্র এক রাতের বৃষ্টিতে কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপ চাক্ষুষ করেছিল শহরবাসী। জল জমার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল, যা পুরবোর্ডকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছিল। গত বছর আগাম প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও যেখানে বিপর্যয় এড়ানো যায়নি, সেখানে এবার মে মাসের শেষভাগেও কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *