এবার আমজনতার জলখাবারেও টান, মুম্বইয়ে এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা দাম বাড়ল পাউরুটির

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের পকেটে নতুন কোপ বসল। জ্বালানির পর এবার সরাসরি প্রভাব পড়ল আমজনতার সকালের জলখাবারে। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রুটি প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘মডার্ন’ (Modern) তাদের বিভিন্ন ধরনের পাউরুটির দাম বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার থেকেই এই নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে। আচমকা এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই চরম ক্ষুব্ধ ও চিন্তিত মধ্যবিত্ত মহল।
তবে স্বস্তির বিষয় এটাই যে, এই মূল্যবৃদ্ধি আপাতত ভারতের সমস্ত জায়গার জন্য প্রযোজ্য নয়। প্রস্তুতকারক সংস্থা সূত্রে খবর, পাউরুটির এই বর্ধিত দাম আপাতত শুধুমাত্র মুম্বই শহরের বাজারের জন্য কার্যকর করা হয়েছে। কলকাতা, দিল্লি বা চেন্নাইয়ের মতো অন্যান্য মহানগরে শহরভিত্তিক দামের চার্ট আলাদা হওয়ায়, সেখানকার বাজারদরে এখনই এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে না।
কাঁচামাল ও জ্বালানির সাঁড়াশি চাপ
সংস্থার পক্ষ থেকে মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে খোলসা করা না হলেও বাজার বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে স্পষ্ট দুটি কারণ দেখছেন। প্রথমত, গত কয়েক মাসে বাজারে ময়দা, চিনি এবং ভোজ্য তেলের মতো পাউরুটি তৈরির প্রধান কাঁচামালগুলোর দাম অনেকটাই বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের (পেট্রোল-ডিজেল) দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। এই দ্বিমুখী খরচের বোঝা সামাল দিতেই শেষ পর্যন্ত পাউরুটির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উৎপাদনকারী সংস্থা।
এক নজরে পাউরুটির নতুন দাম
বাজার সূত্রে জানা গেছে, মডার্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ওজনের ও স্বাদের পাউরুটিতে ২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী:
- হোয়াইট পাউরুটি: ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২ টাকা।
- ছোট ব্রাউন ব্রেড: ২৮ টাকার পরিবর্তে এখন দাম ৩০ টাকা।
- বড় ব্রাউন ব্রেড: ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০ টাকা।
- ৪০০ গ্রাম স্যান্ডউইচ লোফ: ৪০ টাকার রুটি এখন বিকোচ্ছে ৪৫ টাকায়।
- হোল হুইট ব্রেড: ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা।
- মাল্টিগ্রেইন ব্রেড: ৬০ টাকার পরিবর্তে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ৬৫ টাকা।
সকালের ব্যস্ত সময়ে চটজলদি ও সাশ্রয়ী জলখাবার হিসেবে পাউরুটির ওপর একটা বড় অংশের মানুষ নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রথম সারির সংস্থা দাম বাড়ানোর ফলে আগামী দিনে অন্যান্য প্রতিযোগী ব্র্যান্ডগুলোও একই পথে হাঁটতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের খাদ্য বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।