কারিগরদের ভাগ্যোন্নয়নে রাজ্যে চালু হচ্ছে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, থাকছে ১৫ হাজার টাকার কিটসহ একাধিক সুবিধা!

কারিগরদের ভাগ্যোন্নয়নে রাজ্যে চালু হচ্ছে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, থাকছে ১৫ হাজার টাকার কিটসহ একাধিক সুবিধা!

রাজ্যের প্রান্তিক ও ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় আগামী ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের আওতায় তাঁতি, কুমোর, কামারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের দক্ষ শ্রমিকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক অনুদান এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এতদিন ধরে যারা মূলধারার ব্যাংকিং বা সরকারি আর্থিক সুবিধার বাইরে ছিলেন, মূলত তাদের স্বনির্ভর করে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার মেলবন্ধন

এই প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের প্রথম পর্যায়ে উন্নত দক্ষতার ওপর কয়েক দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা হারে স্টাইপেন্ড বা ভাতা পাবেন আবেদনকারীরা। এছাড়া নিজেদের কাজকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে কারিগরদের ১৫,০০০ টাকা মূল্যের একটি টুলকিট ইনসেনটিভ বা আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। একই সাথে কেউ যদি নিজের ব্যবসা শুরু বা বিস্তার করতে চান, তবে তাকে মাত্র ১৮ মাসের মেয়াদে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বল্প সুদে প্রাথমিক ঋণ দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া

ইচ্ছুক এবং যোগ্য প্রার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

  • অনলাইন পদ্ধতি: আবেদনকারীকে প্রথমে প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://pmvishwakarma.gov.in/) ভিজিট করতে হবে। এরপর ‘লগইন’ সেকশনে গিয়ে ‘আবেদনকারী/সুবিধাভোগী লগইন’ বিকল্পটি নির্বাচন করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য পূরণ করে সহজেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
  • অফলাইন পদ্ধতি: অনলাইনের পাশাপাশি নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) গিয়েও আবেদন করা সম্ভব। সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা প্রার্থীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে আবেদনটি প্রক্রিয়াভুক্ত করবেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শিল্পগুলোর আধুনিকায়নের অভাব এবং পুঁজির সংকটের কারণে বহু কারিগর তাদের পৈতৃক পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত মূলধন সরবরাহ করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *