ফাইল রি-ওপেন হতেই গ্রেফতারি এড়াতে আদালতে ছুটলেন নির্যাতিতার প্রতিবেশী!

আরজি কর কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন মামলার ফাইল পুনরায় খুলতেই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ঘটনাচক্রে নতুন করে মামলার তদন্ত শুরু হতেই গ্রেফতারি এড়াতে এবং আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন জলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ তথা নির্যাতিতার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যের এজলাসে মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন তিনি। আদালত অবশ্য তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি প্রদান করেছে।
প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ও আইনি তৎপরতা
সম্প্রতি শিয়ালদহ আদালতে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নতুন অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেখানে জলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তাঁর ঘনিষ্ঠ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং জলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে’র বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার পাশাপাশি প্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন রাতে তাঁদের কিছু না জানিয়েই তড়িঘড়ি হাসপাতাল থেকে দেহ বের করে দাহ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা আখ্যা দিয়ে এই তিন প্রভাবশালী ব্যক্তির গ্রেফতারি দাবি করেছে পরিবার। উল্লেখ্য, বর্তমানে জলহাটির বিধায়ক নির্যাতিতার মা নিজেই।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আইনি জটিলতা ও গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের রক্ষাকবচ চেয়েছেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবীর দাবি, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর বাড়িতে ভাঙচুরও চালানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল সিল করার নির্দেশ আদালতের
অন্য দিকে, আরজি কর মামলার জল গড়িয়েছে বহুদূর। সিবিআই-কে অবিলম্বে সম্পূর্ণ ঘটনাস্থল সিল করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের চেম্বার সহ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সমস্ত জায়গা সিল করার এই কড়া নির্দেশের পর তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্যাতিতার পরিবারের দায়ের করা মামলাটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।