ভিভিআইপি সংস্কৃতির অবসান, ট্র্যাফিক আইন মেনে মাঝপথেই থামল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়!

ভিভিআইপি সংস্কৃতির অবসান, ট্র্যাফিক আইন মেনে মাঝপথেই থামল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়!

কলকাতার রেড রোডে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকলেন সাধারণ মানুষ। নিয়মের তোয়াক্কা না করে ভিভিআইপি কনভয় পার করার চেনা চটজলদি সংস্কৃতিতে এবার বড়সড় ধাক্কা দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ট্র্যাফিক সিগন্যাল ভেঙে তাঁর কনভয় পার করার তোড়জোড় দেখতেই মাঝপথে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর জন্য কোনোভাবেই ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘন করা চলবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এমন ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক ও নাগরিক মহলে।

আইনের ঊর্ধ্বে নন মুখ্যমন্ত্রীও

মঙ্গলবারের ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনকে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রেড রোড হয়ে ময়দানের দিকে যাওয়ার সময় লাল সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও এক ডিসি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় দ্রুত পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি নজরে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ নিজের গাড়ি থামাতে বলেন এবং ওই পুলিশকর্তাকে ডেকে স্পষ্ট জানান, তাঁর কনভয়ও সাধারণ গাড়ির মতোই ট্র্যাফিক সিগন্যাল মেনে চলবে। প্রয়োজনে প্রোটোকল মেনে রুট ডাইভারশন করা যেতে পারে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আইন ভাঙা যাবে না। তিনি যে আইনের ঊর্ধ্বে নন, এই বার্তার মাধ্যমে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন।

প্রশাসনের তৎপরতা ও সামাজিক প্রভাব

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ কেবল রেড রোডের একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি সারা শহর তথা রাজ্যজুড়ে কঠোরভাবে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরের প্রতিটি থানা এবং ট্র্যাফিক গার্ডকে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনায় যেমন বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তেমনই সাধারণ মানুষের ক্ষোভও প্রশমিত হবে। ভিভিআইপি কনভয়ের জন্য দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে থাকার যে চেনা দুর্ভোগ, তা থেকে মুক্তি পাবেন সাধারণ যাত্রীরা। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুলিশকে যেমন কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন, তেমনই নিয়মানুবর্তিতার পাঠও শেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই জনমুখী ও আইনানুগ অবস্থানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আপামর নাগরিক সমাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *