পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের ইডির স্ক্যানারে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী! সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের ইডির স্ক্যানারে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী! সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ

রাজ্যের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও বিপাকে পড়তে চলেছেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। এই দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে পুনরায় তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে, যেখানে আগামী সোমবার (২৫ মে) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বারংবার এড়ানো ও ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ

এর আগেও পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে রথীন ঘোষকে একাধিকবার তলব করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে লোকসভা নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে বারবার সেই হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। অবশেষে গত ১৫ মে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। সেদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির আধিকারিকরা। যদিও ইডি দফতরে ঢোকার মুখে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন যে কেন তাঁকে ডাকা হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। দীর্ঘ জেরা শেষে বেরোনোর সময়ও তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। সেই জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে তাঁকে ফের তলব করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তদন্তের গভীরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জাল অত্যন্ত গভীরে বিস্তৃত। সম্প্রতি এই মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ দমদম পুরসভার অন্যতম আধিকারিক সুজিতকে গ্রেফতার করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রাপকের নাম সুপারিশ করার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী যোগসূত্র মিলেছে। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত বিপুল অর্থ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে সেই সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। রথীন ঘোষের পূর্বতন পুর-প্রশাসনের দায়িত্ব এবং মন্ত্রিত্বের মেয়াদের সূত্র ধরেই এই অর্থ লেনদেনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে চাইছে ইডি। সোমবারের এই জিজ্ঞাসাবাদে রথীন ঘোষের দেওয়া বয়ানের ওপর ভিত্তি করে রাজ্য রাজনীতিতে ও এই তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের মোড় আসতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *