এক ভোটেও জেতার লড়াইয়ে ভবানীপুরে বুথভিত্তিক বিপর্যয়ের মুখে কেন মমতা?

হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্রে ‘এক ভোটে হলেও জিতব’ বলে দেওয়া প্রত্যয় বাস্তবে রূপ পায়নি। ফল প্রকাশ হতেই দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের চেনা এই দুর্গে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের বুথভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে দেখা যাচ্ছে ভবানীপুরের বহু বুথে ৫০টি ভোটও পার করতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
ভেঙে পড়ল চেনা দুর্গ, বুথভিত্তিক ফলাফলে বিপর্যয়
ভবানীপুর বিধানসভার মোট ২৬৭টি বুথের মধ্যে ২০৭টিতেই এগিয়ে রয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিড পেয়েছেন মাত্র ৬০টি বুথে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে গড়ে ৪০০ থেকে ৭০০ জন ভোটার রয়েছেন। অথচ, এর মধ্যে ২৮টি বুথে তৃণমূলনেত্রীর প্রাপ্ত ভোট ৫০ বা তার নিচে নেমে গেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ২২৭ নম্বর বুথে, যেখানে তৃণমূলনেত্রী মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছেন। এছাড়া ১০৫ নম্বর বুথে ৩১টি, ১৭৬ নম্বর বুথে ২৯টি, ২৪৯ নম্বর বুথে ২৮টি এবং ২৬৩ নম্বর বুথে মাত্র ৩০টি ভোট গেছে তাঁর ঝুলিতে। একইভাবে ১১, ১৪, ১৬, ২০, ২৪, ৭৭, ৮৯, ১৪৯, ১৫৮ ও ২৪২ নম্বর বুথগুলোতেও তিনি ১০০ ভোটের গণ্ডি টপকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিপরীতে, শুভেন্দু অধিকারী ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ৩৯টি বুথে।
ভোটের পরিসংখ্যান ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২১ সালের উপনির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৮৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে প্রায় ৫৮ হাজার ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সেবার ভবানীপুরের ৭টি ওয়ার্ডেরই সবকটিতে তিনি লিড পেয়েছিলেন। অথচ পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ উল্টে গেল।
এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন মোট ৫৮,৮১২টি ভোট, যা শতাংশের বিচারে ৪২.১৯%। অন্যদিকে, ৫৩.০২% ভোট পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩,৯১৭টি ভোট। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে তুলে ধরা নেত্রীর এই বুথভিত্তিক বিপর্যয় রাজ্যের সার্বিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্ষমতার এই পালাবদলের পর ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরেও নানা রদবদল ও প্রতীক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।