১০ দিনে ৪৫ হাজারেরও বেশি যানবাহনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল কলকাতা পুলিশ!

১০ দিনে ৪৫ হাজারেরও বেশি যানবাহনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল কলকাতা পুলিশ!

কলকাতার রাস্তায় লাগামছাড়া যানবিধি লঙ্ঘন রুখতে এবার বেনজিরভাবে কঠোর অবস্থান নিল পুলিশ প্রশাসন। ট্রাফিক পুলিশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৮ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনের বিশেষ অভিযানে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ৪৫ হাজারেরও বেশি গাড়ি ও দু-চাকার যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর পুলিশের এই ঝটিকা অভিযান তিলোত্তমার ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক বড়সড় তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।

নিয়মভঙ্গের শীর্ষে অবৈধ পার্কিং ও হেলমেটহীন বাইক

পুলিশের দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, শহরের বুকে ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা কতটা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। এই ১০ দিনে সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে, যার সংখ্যা ২৭,২০১। এর পরেই রয়েছে হেলমেট ছাড়া অসচেতনভাবে মোটরবাইক চালানোর অপরাধ। এই অভিযোগে ১৬,৩০৫ জন চালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, বাইকের পেছনে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী বা ‘ট্রিপল রাইডিং’-এর দায়ে ২,৭৩৮ জনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।

অভিযানের কারণ ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি

কলকাতার সাউথ ট্রাফিক গার্ড এলাকা, যার মধ্যে ময়দান, পার্ক স্ট্রিটের একাংশ, জওহরলাল নেহরু রোড এবং এ জে সি বোস রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল রয়েছে, সেখানে অবৈধ পার্কিংয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে। এছাড়া চৌরঙ্গি, বাবুঘাট, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ এবং লালবাজার স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকাতেও নিয়মভঙ্গের গ্রাফ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। মূলত দায়িত্ব গ্রহণের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শহরে যানবিধি মেনে চলার ওপর বিশেষ জোর দেন। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো এবং দু-চাকার গাড়ির বেপরোয়া মনোভাব রুখতে প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার জেরেই এই ব্যাপক অভিযান।

যানজট মুক্তি ও সড়ক নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাধারণ মানুষের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উৎসবের মরশুম বা সাধারণ কাজের দিনগুলোতে কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা এই অভিযানের ফলে অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সাথে হেলমেটহীন চালকদের বিরুদ্ধে এই কড়া মনোভাব ভবিষ্যতে পথ দুর্ঘটনা এবং তৎজনিত মৃত্যুর হার কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। লালবাজার সূত্রের ইঙ্গিত, শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামী দিনেও এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে জারি থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *