অভিষেকের বাড়ি ভাঙার নোটিসে চাপে পুরসভা? সাংবাদিক বৈঠকে কেন ‘অসহায়’ ফিরহাদ!

বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে এবার খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ভাঙার নোটিস দিল কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁর ‘শান্তিনিকেতন’ বাসভবনে বেশ কয়েকটি বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরসভার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নোটিসের সন্তোষজনক উত্তর না মিললে অবৈধ অংশ ভেঙে দেওয়া হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে, যার কেন্দ্রে চলে এসেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
দায় এড়ালেন মেয়র
এই চরম বিতর্কের মধ্যে বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সম্পূর্ণ দায় এড়িয়ে যান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নিজেকে ‘অসহায়’ দাবি করে তিনি জানান, এই নোটিস জারির বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা ছিল না। কেএমসি অ্যাক্ট বা পুরসভার আইন অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিরা কেবল ‘পলিসি মেকার’ বা নীতি নির্ধারক। কোন নতুন বিল্ডিংয়ের ছাড়পত্র দেওয়া হবে কিংবা কোন ভবনটি বেআইনি, তা দেখার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক ও এক্সিকিউটিভ কমিশনারদের। ফলে বিষয়টি তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না এবং যার বাড়িতে নোটিস গিয়েছে, তিনিই এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
ক্ষুব্ধ দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার নোটিস পাঠানোর এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে মেয়র ও মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং মেয়রের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, তৃণমূলের কিছু নেতাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে দলের এই প্রভাবশালী সাংসদকে নোটিস পাঠানোর ঘটনা পুরপ্রধানের অজান্তে কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার ফলে পুরসভার প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একজন হাইপ্রোফাইল সাংসদের সম্পত্তি নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক থেকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিচ্ছেন। নোটিসের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।