ইভিএম কারচুপির অভিযোগে ভোট বাতিলের পর এবার ফলতায় নজিরবিহীন কড়া পাহারা!

গত মাসের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে নিরাপত্তার বহর প্রায় দ্বিগুণ করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত ২৯ এপ্রিলের ভোটে ইভিএমে (EVM) ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর এই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল কমিশন। এবার যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নামছে প্রশাসন।
বুথে বুথে দ্বিগুণ বাহিনী ও কঠোর নজরদারি
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ফলতার মোট ২৮৫টি বুথের প্রতিটিতে এবার আটজন করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) জওয়ান মোতায়েন থাকবেন, যা একটি পূর্ণ সেকশনের সমান। আগের দফায় প্রতিটি বুথে মাত্র চারজন করে জওয়ান ছিলেন। এই পুনর্নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে মোট ৩৫ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নজরদারির প্রযুক্তিগত দিকটিতেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এবার প্রতিটি বুথের ভেতরে দুটি এবং বাইরে একটি করে ওয়েব ক্যামেরা বসানো থাকবে। এর মাধ্যমে বুথের ভেতরের ভোট প্রক্রিয়া এবং বাইরের পরিস্থিতির লাইভ ওয়েবকাস্টিং সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে ড্রোন দিয়েও আকাশপথে নজরদারি চালানো হতে পারে। সম্পূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে থাকছেন তিনজন বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও গ্রেফতারি
ইভিএম কারচুপির ঘটনায় ভোট বাতিলের পর থেকেই ফলতার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গির খানের নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো এবং রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে পূর্বের সহিংসতার মূল হোতারা এখনও অধরা।
ভোটের আগে ফলতায় শান্তি বজায় রাখতে রাজ্য পুলিশও কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সৈদুল খানসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কমিশনের এই কড়া অবস্থান এবং পুলিশের ধরপাকড়ের ফলে সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরবে এবং তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ফলতার ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।