মীন রাশিতে শনির উল্টো চাল, জুলাই থেকেই চরম দুর্ভোগের আশঙ্কায় ৫টি রাশি

মীন রাশিতে শনির উল্টো চাল, জুলাই থেকেই চরম দুর্ভোগের আশঙ্কায় ৫টি রাশি

মহাজাগতিক নিয়মে গ্রহদের অবস্থান পরিবর্তন জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আগামী ২৭ জুলাই থেকে কর্মফলদাতা শনিদেব মীন রাশিতে বক্রী অর্থাৎ উল্টো গতিতে চলতে শুরু করবেন। প্রথমে রেবতী এবং পরে উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্রের মধ্য দিয়ে শনির এই গোচর চলবে। দীর্ঘ কয়েক মাস এই অবস্থানে থাকার পর, আগামী ১১ ডিসেম্বর শনি আবার মীন রাশিতে মার্গী বা সোজা গতিতে ফিরে আসবে। জ্যোতিষবিদদের মতে, জন্মকোষ্ঠীতে যাদের শনি বক্রী অবস্থায় রয়েছে, তারা এই সময়ে কিছুটা সুফল পেতে পারেন। তবে সাধারণ গণনায় বৃষ, সিংহ, কন্যা, ধনু ও কুম্ভ— এই ৫টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য আগামী কয়েকটি মাস অত্যন্ত প্রতিকূল হতে চলেছে।

আর্থিক মন্দা ও পারিবারিক অশান্তির শঙ্কা

শনির এই নেতিবাচক প্রভাবের কারণে নির্দিষ্ট ৫টি রাশির জাতক-জাতিকারা মূলত আর্থিক, পারিবারিক এবং স্বাস্থ্যজনিত বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। বৃষ রাশির জাতকদের ব্যবসায়িক মন্দা ও কর্মক্ষেত্রে বাড়তি মানসিক চাপের যোগ রয়েছে। অষ্টম ঘরে শনির অবস্থানের কারণে সিংহ রাশির জাতকদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে এবং বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। অন্যদিকে, কন্যা রাশির জাতকদের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে বাধা এবং দাম্পত্য কলহের আশঙ্কা রয়েছে। ধনু রাশির ওপর এমনিতেই শনির ঢাইয়া চলছে, তার ওপর চতুর্থ ঘরে শনির এই বক্রী দশা মানসিক অস্থিরতা ও পারিবারিক জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কুম্ভ রাশির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ঘরে শনির অবস্থান এবং রাহুর উপস্থিতির কারণে সঞ্চিত অর্থ হ্রাসের পাশাপাশি পুরনো পারিবারিক বিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুরক্ষা ও স্বস্তির জ্যোতিষীয় প্রতিকার

শনির এই বক্রী দশার অশুভ প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশেষ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ও প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। পাশাপাশি, মানসিক শান্তি ও সুরক্ষার জন্য নিয়মিত শনি চালিসা ও হনুমান চালিসা পাঠ, শনিদেবের মন্দিরে সর্ষের তেল অর্পণ এবং ‘ওঁম শাম শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, শনিবার অশ্বত্থ গাছের নিচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো এবং অভাবী মানুষদের কালো তিল, কালো জুতো বা ছাতা দান করলে শনিদেবের কুদৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই হ্রাস পেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *