দিনের পর রাত, জ্বলছে দিল্লি! আগামী ৯ দিন চরম দাবদাহের কবলে গোটা উত্তর ভারত

দিনের পর রাত, জ্বলছে দিল্লি! আগামী ৯ দিন চরম দাবদাহের কবলে গোটা উত্তর ভারত

টানা দুই বছর পর এমন আগুনে গ্রীষ্মের মুখোমুখি রাজধানী দিল্লি। তীব্র দাবদাহে কেবল দিনেই নয়, সূর্যাস্তের পরেও স্বস্তি মিলছে না দিল্লির বাসিন্দাদের। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৯ দিন গোটা উত্তর ভারতজুড়ে পারদ থাকবে মগডালে। বুধ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দিনের তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে ২৬ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছাবে। গুরগাঁও এবং এনসিআর অঞ্চলেও তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রির কোটা ছুঁয়ে ফেলেছে। রাতের বেলাতেও গরমের তীব্রতা বজায় থাকায় অতিষ্ঠ আমজনতার ঘুমের দফারফা অবস্থা।

রাতের গনগনে আঁচে জ্বলছে রাজধানী, নেপথ্যে ‘আর্বান হিট আইল্যান্ড’

দিনে রোদ কমলেও রাতে কেন কমছে না গরম, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মূল কারণ ‘আর্বান হিট আইল্যান্ড এফেক্ট’। দিল্লির অতিরিক্ত জনবসতি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে কংক্রিটের রাস্তা, বহুতল ও অ্যাসফল্টের চাদর। এই কংক্রিটের কাঠামো সারাদিন ধরে সূর্যের তীব্র তাপ শোষণ করে রাখে এবং সূর্যাস্তের পর তা পরিবেশে ছাড়তে শুরু করে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে গাছপালার তীব্র অভাব। পর্যাপ্ত সবুজ না থাকায় পরিবেশ এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা শুষে নিতে পারছে না, যার ফলে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।

বিপর্যস্ত জনজীবন ও চিকিৎসকদের সতর্কতা

এই চরম আবহাওয়ার কারণে উত্তর ভারতের স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তীব্র গরমে রাস্তায় বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে দিল্লির স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে সাধারণ মানুষকে দুপুরের দিকে অপ্রয়োজনে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, এই মাত্রাতিরিক্ত গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা প্রবল। সুস্থ থাকতে সাধারণ মানুষকে ছায়ায় আশ্রয় নিতে এবং প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিবেশকর্মীরা দিল্লির ক্রমাগত সবুজ ধ্বংসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *