খরিফ মরশুমের শুরুতেই তামিলনাড়ুতে তীব্র সার সংকট, খাদ্য নিরাপত্তার শঙ্কায় মোদিকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

তামিলনাড়ুতে খরিফ বা বর্ষাকালীন শস্যের মরশুম শুরু হতেই রাজ্যে তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, রাজ্যের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই জরুরি পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করার আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। চিঠিতে তিনি এপ্রিল ও মে মাসে সারের গুরুতর ঘাটতির কথা উল্লেখ করে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১০ মে রাজ্যের কৃষক কল্যাণ বিভাগের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন বিজয়। সেখানেই উঠে আসে যে, এপ্রিল ও মে মাসে সার উৎপাদকরা তামিলনাড়ুর চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যটি নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ৩৯,০০১ মেট্রিক টন কম ইউরিয়া পেয়েছে। এর পাশাপাশি ২৮,৬০৭ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ২৪,২৩৫ মেট্রিক টন এমওপি-র ঘাটতি রয়েছে। ২০২৬ সালের বাকি খরিফ মরশুমের চাহিদা মেটাতে ৩.৮৩ লক্ষ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১.০৫ লক্ষ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ০.৮৩ লক্ষ মেট্রিক টন এমওপি সরবরাহের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ নির্দেশ জারির অনুরোধ জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও কাঁচামালের অভাব
এই তীব্র সার সংকটের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক কারণ। মূলত ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ভারতের প্রয়োজনীয় সারের সিংহভাগ আমদানি করা হয় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে, যার প্রধান পরিবহন পথ এই হরমুজ প্রণালী। পথটি অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া এবং ডিএপি দেশে আসতে পারছে না। একই সাথে কাঁচামালের তীব্র অভাব দেখা দেওয়ায় সার উৎপাদক কো ম্পা নিগুলো উৎপাদন বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে সারের দাম ও সরবরাহের ওপর।
চাষাবাদ ও খাদ্য সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা
খরিফ মরশুমে বীজ বপনের জন্য ইউরিয়া, ডিএপি এবং এমওপি অত্যন্ত অপরিহার্য উপাদান। সারের এই ঘাটতি যদি দ্রুত মেটানো না যায়, তবে গোটা তামিলনাড়ুর চাষাবাদ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। উৎপাদন হ্রাস পেয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু তামিলনাড়ুই নয়, আন্তর্জাতিক এই সংকটের কারণে ভারতের অন্যান্য কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলিও আগামী দিনে একই ধরনের বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।