টলিউডে শেষ হলো বিশ্বাস ব্রাদার্সের দাদাগিরি, এবার গঙ্গাজলে ফেডারেশনের অফিস শুদ্ধ করলেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী!

দীর্ঘ দুই দশক পর টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতেও পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিধানসভা নির্বাচনে অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। আর বিধায়ক নির্বাচিত হতেই টলিউডের সামগ্রিক স্বার্থে বড়সড় অ্যাকশনে নামলেন তিনি। বুধবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় ফেডারেশনের অফিসে গিয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে একপ্রকার ‘শুদ্ধিকরণ’ সম্পন্ন করলেন নতুন বিধায়ক। এই ঘটনার পরই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, টলিউডে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর একচ্ছত্র আধিপত্য ও জমানা এবার পুরোপুরি শেষ।
রাজনীতির নাগপাশ থেকে টলিউডের মুক্তি ও ভয়ের পরিবেশ দূরীকরণ
বিগত এক দশকে বাংলা সিনেপাড়ায় ফেডারেশন এবং স্বরূপ বিশ্বাস সমার্থক হয়ে উঠেছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল ইন্ডাস্ট্রির একাংশের। বিরোধী শিবিরের সমর্থক হওয়ার কারণে অনেক শিল্পীকে কোণঠাসা হতে হয়েছে এবং ‘ব্যান কালচার’-এর শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ফেডারেশনের অফিস শুদ্ধিকরণের পর পাপিয়া অধিকারী কলাকুশলীদের আশ্বস্ত করে জানান, অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের দাদাগিরি আর চলবে না এবং কাউকে কোনো ভয় না পেয়ে এবার খোলা হাওয়ায় শ্বাস নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ না পাওয়া অনেক কোণঠাসা শিল্পী ও কলাকুশলী আবার নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
নারী নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে কড়া বার্তা
ফেডারেশনের অফিসে ভেন্ডার গিল্ডের সম্পাদকসহ বিভিন্ন গিল্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জমকালো সংবর্ধনা নেন পাপিয়া অধিকারী। এরপরই টলিউডে কাজের পরিবেশ ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানান, শুটিংয়ের ক্ষেত্রে আগের দিন মাঝরাতে ফোন করে পরদিনের কল টাইম দেওয়ার সংস্কৃতি আর চলবে না, বরং অন্তত তিন দিন আগে কল টাইম নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে রাতে শুটিং থাকলে নারী কলাকুশলীদের যথাযথ সুরক্ষায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব প্রযোজকদের নিতে হবে বলে জানান। এছাড়া অতীতে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া রাহুল নামের এক শিল্পীর মৃত্যুর মামলা পুনরায় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই নতুন পদক্ষেপের ফলে টলিউডের ভেতরে দীর্ঘদিনের অপশাসন দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ক্ষমতার আকস্মিক হাতবদলে স্টুডিওপাড়ার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ভারসাম্যে নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।