রাজ্যে এসটিএফের মেগা অপারেশন, বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার ৬

রাজ্যজুড়ে অবৈধ অস্ত্রের কারবার রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ও জেলা পুলিশ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে আটটি সেভেন এমএম পিস্তলসহ মোট ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র পাচার ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এই চক্রের মূল শিকড় কোথায়, তা জানতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
আসানসোলে বিপুল অস্ত্রসহ ধৃত দুই
পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে এসটিএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম ফিরোজ হাসান ওরফে মহম্মদ ফিরোজ এবং মহম্মদ সোনু। এদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশি জেরায় জানা গেছে, ধৃত ফিরোজ দুর্গাপুরের এবং সোনু আসানসোলের বাসিন্দা। আসানসোল দক্ষিণ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুরুলিয়ায় ডাকাতির ছক বানচাল
অন্য দিকে, পুরুলিয়ার ঝালদা-গোলা রোডের গাতা মোড় এলাকা থেকে বুধবার ভোরে তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত রাহুল তাঁতি, অমিত টোপ্পো এবং নয়ন বাউরি মূলত ঝাড়খণ্ডের বোকারোর বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতেরা স্বীকার করেছে যে, তারা এলাকায় বড়সড় ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। এই চক্রটি এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গেও জড়িত বলে পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন। ধৃতদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তের পরিধি ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অনুমান করছে, উদ্ধার হওয়া সেভেন এমএম পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ কার্তুজ রাজ্যে কোনো বড়সড় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এই অস্ত্র রাজ্যে প্রবেশ করায় আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের যোগসূত্র স্পষ্ট হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এই চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল চাঁইদের চিহ্নিত করতে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে এই ধরনের চিরুনি তল্লাশি অভিযান আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে।