পরপর মামলায় নাম জড়িয়ে গ্রেপ্তারের খাঁড়া! রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক

রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। একের পর এক তৃণমূল নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এবার তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে শাসক শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করে আইনি সুরক্ষার দাবিতে সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাস।
গ্রেপ্তারের আতঙ্ক ও আইনি তৎপরতা
গত ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। খুন, অস্ত্র আইন, লুটপাট ও ভাঙচুরের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে ইতিমধ্যেই ক্যানিংয়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। বিশেষ করে, ক্যানিং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উত্তম দাসের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারি বিধায়কের এই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পুরনো ঘটনার নতুন তদন্ত এবং একাধিক খুনের মামলায় নিজের নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর, বুধবারই পরেশ রাম দাসের আইনজীবী হাই কোর্টে একটি জরুরি পিটিশন দাখিল করেছেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিধায়ক পরেশ রাম দাসের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও জীবন বিপন্ন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যার কারণে অনেকেই এখন গৃহহীন কিংবা শ্রীঘরে। নিজের কার্যালয় ভাঙচুর এবং এমনকি তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ এনেছেন। প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয়তার জেরে ক্যানিং এলাকায় তৃণমূলের স্থানীয় সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। বিধায়কের দাবি, এই চরম ভীতি ও আইনি জটিলতার কারণে তিনি সাধারণ মানুষকে তাঁর বিধায়কসুলভ প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতে পারছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জনজীবনে।