ইদের মুখে পশুজবাই নিয়ে সরকারি কড়াকড়ি, এবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল

ইদের মুখে পশুজবাই নিয়ে সরকারি কড়াকড়ি, এবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল

রাজ্যে আসন্ন কোরবানি ইদের প্রাক্কালে পশুজবাই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন নতুন বিজেপি সরকারের আনা ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইনের কড়া নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন শাসকদলের বিধায়ক আখরুজ্জামান। এই মামলায় তাঁর সঙ্গী হয়েছেন দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুধু তৃণমূলই নয়, এই নির্দেশিকা ঘিরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তৈরি হওয়া অস্থিরতা দূর করতে অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে নওশাদ সিদ্দিকীর মতো বিরোধী নেতারাও সরব হয়েছেন। একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ায় আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এর যৌথ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

নির্দেশিকার জটিলতা ও মামলার কারণ

মূলত গত ১৩ মে রাজ্য সরকারের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন কার্যকর করে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না এবং ১৪ বছরের কম বয়সী গরুর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে। ইদের ঠিক মুখে এমন সিদ্ধান্তের কারণে ধর্মীয় আচার পালন নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মামলার আবেদনকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী উৎসবের দিনগুলিতে ধর্মীয় কারণে বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই আসন্ন উৎসবে গরুকে বাদ দিয়ে অন্তত মোষ বা বলদ কোরবানির ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড়ের আর্জি জানানো হয়েছে আদালতে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

এই আইনি কড়াকড়ির ফলে কেবল ধর্মীয় অনুভূতিই নয়, রাজ্যের একটি বড় অংশের মানুষের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত প্রান্তিক ও গরিব মানুষ দীর্ঘাদন ধরে পশু প্রতিপালন করে আসছিলেন, হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞায় তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বহু হিন্দু পশুপালকের ওপরও পড়বে, যাঁরা কোরবানির বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পশু লালন-পালন করেন। ফলে সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজ্যে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন রাজ্যবাসীর নজর বৃহস্পতিবারের হাই কোর্টের শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে উৎসবের দিনগুলিতে আইনি ছাড় মিলবে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *