এক দেশ এক ভোট নীতিতে বাঁচবে ৭ লক্ষ কোটি টাকা ও বাড়বে জিডিপি!

এক দেশ এক ভোট নীতিতে বাঁচবে ৭ লক্ষ কোটি টাকা ও বাড়বে জিডিপি!

ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বিল। এই নীতি দেশজুড়ে কার্যকর হলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে এবং দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। গুজরাতের গান্ধীনগরে ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) চেয়ারপার্সন তথা লোকসভার সাংসদ প্রেমপ্রকাশ চৌধরী এই তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লোকসভায় পেশ হওয়া বিল দু’টির খসড়া পর্যালোচনার দায়িত্বে রয়েছে এই বিশেষ সংসদীয় কমিটি।

অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও ত্রিস্তরীয় ভোট পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত এই নীতিতে শুধু লোকসভা এবং রাজ্যের বিধানসভা ভোটই নয়, বড় অঙ্কের আর্থিক সাশ্রয় ও জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বশর্ত হিসাবে পঞ্চায়েত ও পুরভোটকেও একসূত্রে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। জেপিসি চেয়ারপার্সনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ মেনে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন সমন্বিত ভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এর ঠিক ১০০ দিনের মধ্যে দেশজুড়ে পঞ্চায়েত ও পুরসভার ভোট সম্পন্ন করা হবে। ধারাবাহিক ও দফায় দফায় নির্বাচনের বিপুল খরচ কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

খসড়া পর্যালোচনা ও যৌথ কমিটির তৎপরতা

এই আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ১২৯তম সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব-সহ দুটি বিলের খসড়া নিয়ে বর্তমানে বিশদ আলোচনা চালাচ্ছে সংসদের যৌথ কমিটি। লোকসভার ২৭ জন এবং রাজ্যসভার ১২ জন সদস্যসহ সংসদের উভয় কক্ষের মোট ৩৯ জন সাংসদকে নিয়ে এই জেপিসি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রী, যেমন কংগ্রেসের প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিংহ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্ত রয়েছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের কমিটির তৈরি করা ১৮ হাজার পাতার বিশাল রিপোর্টটি নিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা চালাচ্ছে বিজেপি সাংসদ প্রেমপ্রকাশ চৌধরীর নেতৃত্বাধীন এই কমিটি, যা দেশের শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচনী কাঠামোয় এক বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *