বিশ্বের সবচেয়ে তপ্ত ১০০টি শহরের সব ক’টিই ভারতে, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ!

রেকর্ড ভাঙা গরমে পুড়ছে গোটা ভারতবর্ষ। আবহাওয়া ও পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘একিউআই ডট ইন’-এর লাইভ তাপমাত্রা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ১০০টি শহরের সব ক’টিই এখন ভারতে অবস্থান করছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটের দিকে এই নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় থাকা শহরগুলোর তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ঘোরাফেরা করছে, যার মধ্যে ৭টি শহরের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে।
তালিকায় হিমালয়ের কোলের শহরও
এই চরম তাপপ্রবাহের তালিকায় প্রথাগতভাবে উষ্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত নতুন দিল্লি, ফরিদাবাদ, চণ্ডীগড়, আগরা, অযোধ্যা, গ্বালিয়র, কোটা ও রায়পুরের মতো শহরগুলো তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাহাড়ি ও ঠান্ডা অঞ্চলের আবহাওয়ার বেশ কিছু এলাকাও। তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে জম্মু এবং উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত ধর্মীয় ও পর্যটন শহর হরিদ্বার। এছাড়া বঠিন্ডা, পঠানকোট, বরেলী, ঝাঁসি ও কইথলের মতো শহরগুলোতে তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে মথুরা, ভিলাই, নানদেড় ও অকোলা শহরে তাপমাত্রা ছিল ৪৫ ডিগ্রির ওপরে।
চরম গরমের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, আকাশে মেঘের স্থায়ী আচ্ছাদন না থাকা এবং নিরবচ্ছিন্ন শুষ্ক সৌর বিকিরণের কারণেই উত্তর ভারতের সমতলভূমি এবং মধ্য ভারতের মালভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটা অস্বাভাবিক রূপ নিয়েছে। এই তীব্র দাবদাহের কারণে ইতিমধ্যে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশে এই চরম পরিস্থিতি আগামী ২৪ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলস্তর হ্রাস পাওয়া, কৃষিকাজে মারাত্মক ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যের ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।