৪৭.৬ ডিগ্রির আগুনে ঝলসে ভারত! ‘তাপদ্বীপ’ আর এল নিনো মিলেই কি এই ভয়ংকর দশা?

দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের দাপটে কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উত্তর থেকে পশ্চিম এবং মধ্য ভারত থেকে উপদ্বীপ— সর্বত্রই স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা অনেকটাই বেশি। উত্তরপ্রদেশের বান্দায় পারদ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ৪৭ ডিগ্রি ছাড়িয়ে মঙ্গলবার রেকর্ড ৪৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। রাজধানী দিল্লিতে তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৪ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। আমদাবাদ, নাগপুর, জয়পুর এবং লখনউতেও গরমের তীব্রতা চরমে। শুধু উত্তর বা পশ্চিম ভারত নয়, দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং কলকাতাতেও তাপমাত্রা তিরিশের ঘরের শেষের দিকে পৌঁছেছে। মুম্বই ও কলকাতায় চরম আর্দ্রতা মানুষের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দিন তো বটেই, রাতেও মিলছে না স্বস্তি। দিল্লি ও জম্মু-কাশ্মীরসহ বহু জায়গায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৫ ডিগ্রি বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
সংকটের নেপথ্যে জোড়া ফলা
চলতি বছরের এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পিছনে প্রথাগত ভৌগোলিক কারণের পাশাপাশি একাধিক মানবসৃষ্ট ও বৈশ্বিক জলবায়ুগত কারণ কাজ করছে। রাজস্থান ও পাকিস্তান সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চল এবং সেখান থেকে আসা শুকনো গরম হাওয়া এই পরিস্থিতির মূল কারণ। তবে তীব্রতা বাড়ার অন্যতম বড় অনুঘটক শহরাঞ্চলের ‘তাপদ্বীপ’ (আর্বান হিট আইল্যান্ড) পরিস্থিতি। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে গাছপালা ও খোলা জমি কমে কংক্রিট, কাচ ও ইস্পাতের ব্যবহার বাড়ায় শহরগুলো তাপ ধরে রাখছে, যার ফলে গ্রামীণ এলাকার তুলনায় ১০ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বর্ষা-পূর্ব বৃষ্টির ঘাটতি এবং প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি, যা সাধারণত এশিয়ায় বৃষ্টি কমিয়ে গরম বাড়িয়ে দেয়।
সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও সতর্কতা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে এবং তাপমাত্রা ফের ৪৫ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা স্থানীয় বজ্রঝড় ভবিষ্যতে কিছুটা স্বস্তি দিলেও স্থায়ী বৃষ্টির কোনো নিশ্চয়তা নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধাক্কায় আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, এ বছরের সামগ্রিক বর্ষা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। এই চরম আবহাওয়ায় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকেরা দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং শারীরিক অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন।