অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিস নিয়ে মুখ খুললেন না ফিরহাদ হাকিম!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালিকানাধীন ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস জারি করেছে কলকাতা পুরসভা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অথচ, খোদ কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই গোটা বিষয়টি নিয়ে কার্যত দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কলকাতা পুরসভা আইন ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোড এবং ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ির কিছু অংশ অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা করা না হলে পুরসভা নিজেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সেই অংশ ভেঙে দেবে।
মেয়রের দায় এড়ানো এবং প্রশাসনিক যুক্তি
এই হাইপ্রোফাইল নোটিস বিতর্ক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই এবং এটি তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যেও পড়ে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যক্তিগত বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তাঁর দাবি, মেয়র হিসেবে তিনি মূলত নীতি নির্ধারণের কাজ করেন। কোন বাড়ি ভাঙা হবে বা হবে না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে নেওয়া হয় এবং এটি বিল্ডিং বিভাগের বিষয়। এর সঙ্গে বরো চেয়ারম্যানেরও কোনো এক্তিয়ার নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুরসভার এই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই নোটিস প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং এ ধরনের নোটিস পাঠিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো যাবে না।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট একটি সংস্থার নামে থাকা সম্পত্তির ভিত্তিতেই এই আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের শাসক দলের এক শীর্ষ নেতার বাড়ির নির্মাণ নিয়ে খোদ দলীয় মেয়রের পরিচালিত পুরসভার এই কড়া অবস্থান এবং মেয়রের দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল আগামী দিনে পুরপ্রশাসন ও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।