ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় আলিপুর আদালতে আত্মসমর্পণ, হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেলেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায় ও তাঁর পুত্র

ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় আলিপুর আদালতে আত্মসমর্পণ, হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেলেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায় ও তাঁর পুত্র

ছাব্বিশের মসনদ বদল এবং নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলা নিয়ে আইনি তৎপরতা এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। এবার সেই ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি পুরনো মামলায় সরাসরি আলিপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন দক্ষিণ কলকাতার বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ মালা রায় এবং তাঁর পুত্র নির্বাণ রায়। বুধবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে, বিচারক ব্যক্তিগত ১ হাজার টাকার বন্ডে তাঁদের দুজনেরই জামিন মঞ্জুর করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অস্ত্র উঁচিয়ে বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ ঠা মে— অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন রাতে। অভিযোগ, ফল প্রকাশের পরেই দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ থানা এলাকার একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চড়াও হন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অভিযোগের তির সরাসরি ছিল মালা রায় এবং তাঁর ছেলে নির্বাণ রায়ের দিকে।

বিজেপির দাবি:

  • ফলাফল ঘোষণার রাতে টালিগঞ্জের বেশ কিছু বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্র উঁচিয়ে ভয় দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
  • এই ঘটনায় আক্রান্ত কর্মীদের তরফে টালিগঞ্জ থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

FIR-এর ভিত্তিতেই অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ

বিজেপি কর্মীদের সেই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই টালিগঞ্জ থানার পুলিশ তৃণমূল সাংসদ মালা রায়, তাঁর পুত্র নির্বাণ রায় সহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক জামিনযোগ্য ও জামিনঅযোগ্য ধারায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে। নতুন সরকারের জমানায় পুলিশি গ্রেফতারির খাঁড়া এড়াতে এবং আইনি রক্ষাকবচ পেতেই আজ আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন মা ও ছেলে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারি, অন্যদিকে সল্টলেক-কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির ওপর পুরসভার বুলডোজার নোটিশ— এই অলআউট পুলিশি ও প্রশাসনিক অ্যাকশনের আবহে কোনো ঝুঁকি না নিয়েই মালা রায় আদালতের মাধ্যমে আগাম জামিন বা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *