‘লাভ জিহাদ ও ধর্মান্তর, অসামাজিক কাজের নেপথ্যে বড় অংশই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

‘লাভ জিহাদ ও ধর্মান্তর, অসামাজিক কাজের নেপথ্যে বড় অংশই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার মেগা গাইডলাইন জারির পর, এবার এ রাজ্যে অপরাধের গ্রাফ বৃদ্ধি এবং নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে অনুপ্রবেশকারীদের ভূমিকা নিয়ে এক মারাত্মক ও নজিরবিহীন বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে লাভ জিহাদ, বলপূর্বক ধর্মান্তর এবং নারী সুরক্ষার পরিপন্থী যে সমস্ত অসামাজিক কাজকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এক বড় অংশ।

একদিকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথ ‘পুশ-ব্যাক’ অভিযান কার্যকর করা, আর অন্যদিকে এই অনুপ্রবেশকারীদেরই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে দেগে দেওয়া— ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর নবান্নের এই চরম আগ্রাসী অবস্থান বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করল।

২ সপ্তাহের মধ্যে জমি পাবে বিএসএফ, আমলারা প্রস্তুত: মুখ্যমন্ত্রী

সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের জট কাটাতে যে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার একটি সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত কড়া সময়সীমা (Deadline) আজ বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি অধিগ্রহণে গতি এনে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান:

“সীমান্তের অত্যন্ত সংবেদনশীল ২৭ কিলোমিটার এলাকাকে সুরক্ষিত করার জন্য আগামী দু’সপ্তাহের (Two Weeks) মধ্যেই সমস্ত প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। আমাদের প্রশাসনিক আমলারা এবং দক্ষ আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই জমির একটা বড় অংশ চিহ্নিত করে তা হস্তান্তরের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কয়েক দশক ধরে সীমান্তকে যেভাবে অরক্ষিত রেখে তোষণের রাজনীতি করা হয়েছিল, সেই জমানার অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।”

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

এদিন স্রেফ ভৌগোলিক বা আইনি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, অনুপ্রবেশের সাথে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সামাজিক অপরাধের যোগসূত্র নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ধৃত অপরাধীদের খতিয়ান টেনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন:

  • আইন-শৃঙ্খলা ও অসামাজিক কাজ: রাজ্যে ইদানীং আইন-শৃঙ্খলাজনিত যে সমস্ত বড় অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, পুলিশি তদন্তে দেখা গিয়েছে যে তাতে জড়িত অপরাধীদের এক বিরাট অংশই সীমান্ত পেরিয়ে আসা অবৈধ বাংলাদেশি।
  • লাভ জিহাদ ও বলপূর্বক ধর্মান্তর: নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্যে যে ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম ও বলপূর্বক ধর্মান্তকরণের (Forced Conversion) অভিযোগ সামনে আসছে, তার সাথে এই অনুপ্রবেশকারী সিন্ডিকেটের গভীর যোগ রয়েছে।
  • নারী নিরাপত্তা রক্ষা: বাংলার মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ধরণের সামাজিক ব্যাধি রুখতে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্যছাড়া করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

সীমান্ত জেলাগুলিতে হাই-অ্যালার্ট, নবান্নের কড়া নজর

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পর পর বক্তব্যগুলি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্ট্র্যাটেজি। একদিকে যখন পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর সিবিআই হেফাজত, অন্যদিকে সল্টলেক ও কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশ এবং নদিয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে তৃণমূলের অন্দর চরম জেরবার, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘নারী সুরক্ষা’র মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল দুটি ইস্যুকে এক সুতোয় বেঁধে দিলেন।

২ সপ্তাহের এই ডেডলাইনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে জমি যাওয়ার পর সীমান্ত জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে রাজ্য পুলিশ কতটা কড়া অ্যাকশন নেয় এবং এর জবাবে বিদায়ী তৃণমূল শিবির কী কৌশল অবলম্বন করে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *