‘তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে ৪ দশকে ৬০০ কিমি সীমান্ত অরক্ষিত ছিল’, জমি জটের খতিয়ান দিয়ে শুভেন্দুর তীব্র আক্রমণ

‘তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে ৪ দশকে ৬০০ কিমি সীমান্ত অরক্ষিত ছিল’, জমি জটের খতিয়ান দিয়ে শুভেন্দুর তীব্র আক্রমণ

রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথ অপারেশনে অনুপ্রবেশকারীদের পুশ-ব্যাক করার মেগা নির্দেশিকা জারির পর, এবার পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের জট নিয়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে এক মারাত্মক পরিসংখ্যানগত ও আইনি আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিগত সরকারের রাজনৈতিক উদাসীনতা ও ‘তোষণ নীতি’র কারণেই দেশের সুরক্ষাকে দিনের পর দিন চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি সম্পূর্ণ ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক খতিয়ান তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন, কেন এতদিন এ রাজ্যে অনুপ্রবেশের রমরমা ব্যবসা চলেছে এবং কীভাবে নতুন সরকার সেই পথ চিরতরে বন্ধ করতে চলেছে।

সীমান্তের খতিয়ান ও জমি জট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক পরিসংখ্যান

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আন্তর্জাতিক সীমানার বাস্তব চিত্র এবং জমি অধিগ্রহণ না করার নেপথ্যে থাকা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি জানান:

  • ৪ হাজার কিমির সীমানা: ভারতের সাথে বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার। আসাম, মেঘালয় বা ত্রিপুরার মতো অন্যান্য প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে বিএসএফ (BSF) তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সীমান্ত সুরক্ষার সমস্ত জমি পেয়ে গিয়েছে এবং সেখানে কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
  • বাংলায় ২২০০ কিমি সীমান্ত: এই ৪,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে একা পশ্চিমবঙ্গে।
  • ১৬০০ কিমিতে কাঁটাতার: এই ২,২০০ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ১,৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
  • ৬০০ কিমি অরক্ষিত: বাকি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও কাঁটাতারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

৫৫৫ কিমি জমি চাইলেই দেওয়া যেত, তোপ শুভেন্দুর

যে ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত রয়েছে, তার সিংহভাগ জট যে সম্পূর্ণ কৃত্রিম এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“এই ৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ৫৫৫ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার চাইলেই জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে পারত। এর জন্য কোনো আইনি জটিলতা ছিল না। কিন্তু শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ও একটি বিশেষ অংশকে তুষ্ট করার জন্য বিগত ৪ দশক ধরে এই জমি দেওয়া হয়নি। সীমান্তকে ইচ্ছাকৃতভাবে খোলা রাখা হয়েছিল।”

দশকের বকেয়া কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ নবান্নের

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর এই ‘তোষণ ও উদাসীনতার রাজনীতি’র দিন শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে নতুন সরকার।

প্রশাসনিক মহলের মতে, একদিকে সল্টলেক ও কালীঘাটে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভার কড়া অ্যাকশন আর অন্যদিকে সীমান্ত সুরক্ষায় রাজ্য পুলিশের মেগা প্রশাসনিক রদবদল প্রমাণ করছে যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাশ নিজের হাতে নিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও জাতীয় সুরক্ষাকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছেন। বাকি অরক্ষিত সীমান্ত এলাকাগুলিতেও যাতে দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে কাঁটাতারের কাজ শেষ করা যায়, তার জন্য নবান্নের দক্ষ আধিকারিকদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *