মাছ চাষেই লাখপতি হওয়ার সুযোগ! কেন্দ্রের এই স্কিমে কী কী সুবিধা মিলছে জানেন?

মাছ চাষেই লাখপতি হওয়ার সুযোগ! কেন্দ্রের এই স্কিমে কী কী সুবিধা মিলছে জানেন?

মাছ চাষে বিপুল উপার্জনের সুযোগ তৈরি করতে এবার রাজ্যে পুরোদমে চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রকল্পগুলো। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা কিষান সম্মান নিধির পাশাপাশি গতি পাচ্ছে মৎস্যজীবীদের ভাগ্যবদলের এই বিশেষ উদ্যোগ। মূলত ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ (PMMSY) এবং মৎস্যচাষিদের জন্য ‘কিষান ক্রেডিট কার্ড’ (KCC) চালুর মাধ্যমে মৎস্য শিল্পের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

আর্থিক অনুদান ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ

কেন্দ্রের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের অধীনে মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষি থেকে শুরু করে গভীর সমুদ্রের মৎস্যজীবী এবং কোল্ড চেইন বা মাছের খাদ্য তৈরির মিলের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পাবেন। এই স্কিমে মাছ চাষের মোট খরচের একটি বিশাল অংশ সরকার বহন করে। সাধারণ বিভাগের উপভোক্তারা মোট খরচের ৪০ শতাংশ এবং তপশিলি জাতি, উপজাতি ও নারী মৎস্যচাষিরা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সরাসরি সরকারি আর্থিক সহায়তা বা অনুদান পেয়ে থাকেন।

এর পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের মূলধন জোগাতে কিষান ক্রেডিট কার্ডের পরিধি বাড়িয়েছে কেন্দ্র। এই কার্ডের মাধ্যমে মাত্র ২ শতাংশ বার্ষিক সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া সম্ভব। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ১.৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য কোনো জামানত বা বন্ধক (Collateral-free) দিতে হয় না। এছাড়া কোনো মৎস্যচাষি যদি সময়মতো এই ঋণ পরিশোধ করেন, তবে তিনি সুদের হারে আরও ৩ শতাংশ অতিরিক্ত ছাড় বা রেয়াত পেয়ে থাকেন।

প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব

প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার অধীনে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য কিষান সমৃদ্ধি সহ-যোজনা’ নামক একটি উপ-প্রকল্পও রয়েছে, যা মূলত ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী এবং নতুন উদ্যোক্তাদের এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এই সুবিধার ফলে রাজ্যে মৎস্য চাষের সনাতনী পদ্ধতির বদলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। চাষ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘর চেইনের অগ্রগতির কারণে মাছ নষ্ট হওয়ার পরিমাণ বিপুলভাবে হ্রাস পাবে। সহজ শর্তে ঋণ ও মোটা অঙ্কের সরকারি অনুদান পাওয়ার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে মৎস্য চাষ একটি লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে।

এই প্রকল্পগুলোর সুবিধা নিতে আগ্রহী আবেদনকারীদের অবশ্যই ‘ন্যাশনাল ফিশারিজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’-এ নাম নথিভুক্ত করতে হবে। সরকারি ‘মাইস্কিম’ (myScheme) পোর্টাল কিংবা প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন করা যাবে। এছাড়া কিষান ক্রেডিট কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র, পুকুরের লিজের কাগজ বা জমির রেকর্ড এবং পরিচয়পত্র নিয়ে নিকটস্থ সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকে যোগাযোগ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *