শিক্ষক নিয়োগে কী করে ছাড় দিল রাজ্য, মাদ্রাসা মামলায় বেনজির পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিতে ২০১৬ সালের পর থেকে হওয়া শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের বৈধতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহর ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সিলেকশন প্রক্রিয়া যদি আইনসম্মত না হয়, তবে সেই নিয়োগ কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না। বিগত এক দশকে রাজ্যের নিয়োগ সংক্রান্ত ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়াই ত্রুটিপূর্ণ, সেখানে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রশ্নটিই গৌণ হয়ে যায়।
আইন অগ্রাহ্যের জের ও বেতন বন্ধের আশঙ্কা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে রাজ্যের একাধিক মাদ্রাসার পরিচালন সমিতি একতরফাভাবে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করেছে। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হওয়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই, যে নিয়োগে সরকারের কোনো ভূমিকাই ছিল না, সেখানে রাজ্য কোষাগার থেকে কেন তাঁদের বেতন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই বেনিয়মের জেরে বহু যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তিনটি স্তম্ভ এবং স্বজনপোষণের ইঙ্গিত
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত কোনো নিয়োগের বৈধতা বিচারের ক্ষেত্রে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রথমত, নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারি নিয়মে অনুমোদিত কি না; দ্বিতীয়ত, প্রার্থীর প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা; এবং তৃতীয়ত, প্রার্থী একটি বৈধ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই মাদ্রাসা নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক স্বজনপোষণ হয়েছে এবং প্রকৃত যোগ্যদের বাইরে রেখে কম যোগ্যদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার বিতর্কিত নিয়োগের মধ্যে ১০ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নিয়োগকে নমুনা হিসেবে ধরে সুপ্রিম কোর্টে দফায় দফায় শুনানি চলছে। এই মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর এখন রাজ্যের কয়েক হাজার মাদ্রাসা কর্মীর ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।