. দেশজুড়ে সংকট, আর বিদেশে ‘মেলোডি’! মোদিকে কটাক্ষে কী বললেন রাহুল?

ইটালি সফরে গিয়ে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ভারতের বিখ্যাত ‘মেলোডি’ চকোলেট উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সেই মিষ্টি মুহূর্তের ভিডিও নেটদুনিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হতেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্যমূলক আচরণকে এবার তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দেশজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার দেওয়া ও রিল বানানোকে একপ্রকার ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মেলোডি’ রসায়ন
পাঁচ দেশ সফরের শেষ গন্তব্য হিসেবে ইটালির রোমে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মেলোনি। বিশ্বখ্যাত কলোসিয়ামের সামনে দুই রাষ্ট্রনেতার সেলফি এবং মোদির আনা ‘মেলোডি’ চকোলেটের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মেলোনি হাসিমুখে চকোলেটের প্রশংসা করছেন। ওয়াকিবহল মহলে ‘মেলোডি’ নামে পরিচিত এই দুই নেতার সুসম্পর্কের রসায়ন নেটিজেনদের একাংশের প্রশংসা কুড়ালেও, একে দেশের বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে ভিন্নভাবে দেখছে বিরোধী শিবির।
জনগণের চোখে জল আর প্রধানমন্ত্রীর হাসি
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও চকোলেট উপহারের ভিডিওকে কেন্দ্র করে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, দেশের সাধারণ মানুষ যখন তীব্র মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তখন প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে চকোলেট বিলি করছেন। কৃষক, যুবসমাজ, নারী ও ছোট ব্যবসায়ীদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে রাহুল দাবি করেন, দেশের মানুষ যখন কষ্টে আছেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর এমন হাসিমুখ ও রিল বানানো কোনো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় হতে পারে না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টাপাল্টি চাপ
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর এবং কূটনৈতিক সৌজন্যকে ঘরোয়া রাজনীতির হাতিয়ার করে বিরোধীরা মূলত দেশের অর্থনৈতিক মন্দা, কর্মসংস্থান ও মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুটিকে সাধারণ মানুষের সামনে আরও বড় করে তুলতে চাইছে। রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণ বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের হাততালির বিপরীতে দেশের কৃষক ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনাকে সামনে এনে দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের তীক্ষ্ণ কটাক্ষের ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক ইমেজ বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।