ষোড়শ অর্থ কমিশনের নয়া নিয়ম! পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক খরচে বড়সড় বদল আনল জেলা প্রশাসন

ষোড়শ অর্থ কমিশনের (16th Finance Commission) নতুন নিয়মাবলী নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এক বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি শুরু করল জেলা প্রশাসন। পঞ্চায়েত স্তরে যাতে আগামী দিনে সরকারি অর্থ বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার হয় এবং কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই অগ্রিম এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই অর্থ কমিশনের নির্দেশিকায় গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতগুলির টাকা খরচের স্বাধীনতায় যেমন কিছু রাশ টানা হয়েছে, ঠিক তেমনই বেশ কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শিথিলও করা হয়েছে।
রাস্তার কাজে খরচের সীমারেখা এবং স্যানিটেশনে ছাড়
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক ক্ষমতা ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে:
- রাস্তার কাজে সর্বোচ্চ ২০%: এবার থেকে পঞ্চায়েতগুলি তাদের ‘আনটায়েড ফান্ড’ (Untied Fund)-এর মোট প্রাপ্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ টাকাই কেবল রাস্তার তৈরি বা মেরামতির কাজে খরচ করতে পারবে। উল্লেখ্য, বিগত অর্থ কমিশনগুলিতে এই খরচের কোনো নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা ছিল না, যা এবার বেঁধে দেওয়া হলো।
- স্যানিটেশন ও পানীয় জলে শিথিলতা: আগের নিয়ম মিলিয়ে স্যানিটেশন (স্বচ্ছতা) এবং পানীয় জলের প্রকল্পে সমান ভাগে টাকা খরচের যে কড়া নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা ছিল, এবার তা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রয়োজন বুঝে পঞ্চায়েতগুলি এই দুই ক্ষেত্রে খরচের অনুপাত নির্ধারণ করতে পারবে।
ভালো কাজের জন্য মিলবে অতিরিক্ত ‘বোনাস’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চায়েতগুলির কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার এক বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে সমস্ত পঞ্চায়েত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং নিয়ম মেনে ভালো কাজ করে দেখাতে পারবে, তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক অনুদান বা পারফরম্যান্স বোনাসের সংস্থান রাখা হয়েছে নতুন নিয়মে।
এই সমস্ত নতুন ও জটিল নিয়মগুলি যাতে পঞ্চায়েত প্রধান ও আধিকারিকেরা সহজেই বুঝতে পারেন এবং উন্নয়নের কাজ সচল রাখতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এই আগাম সচেতনতা শিবির অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।