গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ভয়ঙ্কর রূপ! বিশ্বের সবচেয়ে তপ্ত ১০০টি শহরের সব ক’টিই ভারতে, তালিকায় কারা?

গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ভয়ঙ্কর রূপ! বিশ্বের সবচেয়ে তপ্ত ১০০টি শহরের সব ক’টিই ভারতে, তালিকায় কারা?

জলবায়ু পরিবর্তনের এক চরম ও অভূতপূর্ব রূপ দেখল গোটা বিশ্ব। প্রকৃতির সমস্ত চেনা সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ এক নজিরবিহীন ও ভয়ঙ্কর রেকর্ডের সাক্ষী হলো ভারতের আবহাওয়া। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘একিউআই ডট ইন’ (AQI.in)-এর লাইভ বিশ্ব তাপমাত্রা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে গোটা পৃথিবীর বুকে থাকা সবচেয়ে উষ্ণ ১০০টি শহরের সব ক’টিই ছিল ভারতের অন্তর্গত।

বিশ্বের সবচেয়ে তপ্ত শহরগুলির এই তালিকায় ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যভাগের চেনা তপ্ত অঞ্চলগুলির পাশাপাশি এমন কিছু পাহাড়ি ও তরাই অঞ্চলের শহরও ঠাঁই পেয়েছে, যা দেখে কার্যত স্তম্ভিত পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে আবহাওয়াবিদ ও সাধারণ মানুষ। তালিকা অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের ওই ১০০টি শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

হিমালয়ের কোল থেকে মরুপ্রান্তর, তালিকায় ঠাঁই পেল যারা

সাধারণত মে মাসে দিল্লির পারদ চড়লেও, এবার তাপপ্রবাহের গ্রাস থেকে রেহাই পায়নি হিমালয়ের পাদদেশের পাহাড়ি ও পবিত্র অঞ্চলও। মঙ্গলবার দুপুরের লাইভ ডেটা অনুযায়ী, তীব্রতম এই তাপপ্রবাহের তালিকায় প্রথাগত উষ্ণ শহর যেমন— নয়াদিল্লি, ফরিদাবাদ, চণ্ডীগড়, আগরা, অযোধ্যা, গ্বালিয়র, কোটা এবং রায়পুরের পাশাপাশি নজিরবিহীনভাবে নাম উঠেছে জম্মু এবং উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ের কোলের শহর হরিদ্বারেরও।

গ্রাউন্ড স্তরের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে:

  • ৪৬ ডিগ্রির ওপরে: পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের বঠিন্ডা, পঠানকোট, বরেলী, ঝাঁসি এবং কইথলের মতো শহরগুলিতে পারদ ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল।
  • ৪৫ ডিগ্রির ওপরে: পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষ্ণভূমি মথুরা, ছত্তীসগঢ়ের ইস্পাত নগরী ভিলাই এবং মহারাষ্ট্রের নানদেড় ও অকোলা শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি।

কেন এই নজিরবিহীন দহন? কারণ ব্যাখ্যা করল মৌসম ভবন

মঙ্গলবারের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পরেই সমগ্র উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহের (Severe Heatwave) সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই আকস্মিক ও সর্বগ্রাসী গরমের নেপথ্যে মূলত দুটি প্রধান আবহাওয়াগত কারণ রয়েছে।

প্রথমত, গাঙ্গেয় সমভূমি ও উত্তর ভারতের আকাশে কোনো স্থায়ী মেঘের আচ্ছাদন বা বাষ্পীয় মেঘের উপস্থিতি সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত, মেঘহীন আকাশ থাকার কারণে কোনো বাধা ছাড়াই সূর্য থেকে নিরবচ্ছিন্ন ও তীব্র শুষ্ক সৌর বিকিরণ (Solar Radiation) সরাসরি এসে পড়ছে উত্তর ভারতের সমতলভূমি এবং মধ্য ভারতের মালভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। এর ফলেই মাটি ও বাতাস অভূতপূর্বভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রভাব ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে এখনই নিস্তার মেলার কোনো লক্ষণ নেই। বিশেষ করে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি ও রাজস্থানের কিছু অংশে এই তীব্র তাপপ্রবাহ আগামী ২৪শে মে পর্যন্ত একটানা চলতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরণের নজিরবিহীন গরমের ফলে গ্রামীণ ও শহর এলাকায় এক তীব্র জলসংকট ও পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। একই সাথে মাঠে থাকা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আবহাওয়া দফতর থেকে এই দিনগুলিতে দুপুরের দিকে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *