ত্রিকোণ প্রেমের নৃশংস পরিণতি! নিউ মার্কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে গলা কেটে খুন

শহর কলকাতার বুকে ত্রিকোণ প্রেমের বিবাদের জেরে এক ১৭ বছরের কিশোরকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিউ মার্কেট থানা এলাকার এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত কিশোরের নাম দীপক গুপ্ত (১৭), সে নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত উমা দাস লেনের বাসিন্দা ছিল। অমিয় হাজরা লেনের “গুপ্তা স্টোর” নামে তাঁদের নিজেদের পারিবারিক মুদিখানার দোকানেই কাজ করত দীপক।
রাজ্যে সরকার বদলের পর যখন সল্টলেক থেকে শুরু করে কলকাতার সর্বত্র হকার উচ্ছেদ, সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশিকা জারি হয়েছে, ঠিক তখনই কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় লালবাজারের অন্দরেও শোরগোল পড়ে গেছে।
দোকানে ঢুকে একের পর এক ছুরির কোপ, হাসপাতালে মৃত্যু
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ঠিক ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত শশী তেওয়ারি আচমকাই উগ্র মূর্তিতে ওই মুদিখানার দোকানে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে নিজের কাছে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে দীপকের গলায় একের পর এক কোপ মারতে শুরু করে। রক্তাক্ত অবস্থায় দীপক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং তাঁর চিৎকার শুনে আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন।
গুরুতর জখম অবস্থায় দীপকের ভাই ও তাঁর এক বন্ধু মিলে প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু রক্তক্ষরণ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা তাকে এনআরএস (NRS) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে জরুরি বিভাগে অস্ত্রোপচার চলাকালীন দুপুর ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ মৃত্যু হয় ওই কিশোরের।
নিকো পার্কের ডেটিংয়েই চড়ল রাগের পারদ, নেপথ্যে ত্রিকোণ প্রেম
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে নেমে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে এক তরুণীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ত্রিকোণ প্রেমের তীব্র আক্রোষ। তদন্তকারীদের খতিয়ান অনুযায়ী:
- পুরোনো শত্রুতা: স্থানীয় এক তরুণীকে কেন্দ্র করে শশী ও দীপকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। ওই তরুণীর সাথে দীপকের মেলামেশা ও কথাবার্তা বলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না শশী। সে দীপককে ওই তরুণীর থেকে দূরে থাকার জন্য একাধিকবার হুমকিও দিয়েছিল।
- নিকো পার্কের ট্রিগার: পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, ঘটনার আগের দিন দীপক ওই তরুণী ও আরও কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে সল্টলেকের নিকো পার্ক ওয়াটার পার্কে ঘুরতে গিয়েছিল। সোশাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে সেই খবর শশীর কাছে পৌঁছানোমাত্রই তার রাগের পারদ চরমে ওঠে এবং সে দীপককে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে।
পলাতক অভিযুক্তকে বিকেলে গ্রেপ্তার করল লালবাজার
নৃশংস এই কাণ্ড ঘটানোর পরেই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিয়েছিল অভিযুক্ত শশী তেওয়ারি। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নির্দেশে এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। নিউ মার্কেট থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ টিম বুধবার বিকেল জুড়ে শহরের বিভিন্ন ডেরায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে ঘাতক শশীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।