অভিষেকের সম্পত্তি তালিকা সম্পূর্ণ ভুয়ো! কুণাল-ঋতব্রতদের পাশে নিয়ে কুৎসার বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির সম্পত্তি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকাকে কেন্দ্র করে এবার অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানাল ঘাসফুল শিবির। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আজ এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাজারে যে তালিকাটি ঘুরছে তা সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি কুৎসিত চক্রান্ত মাত্র।
এদিন বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সন্দীপন সাহাকে পাশে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কুণাল ঘোষ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তার পর এই সাংবাদিক বৈঠক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হলফনামা দেখার চ্যালেঞ্জ, কুৎসার বিরুদ্ধে আইনি বার্তা
ছড়িয়ে পড়া তথ্যের তীব্র বিরোধিতা করে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, “সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে বেশ কয়েকটি সম্পত্তির নাম ও ঠিকানা দিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, সেগুলো নাকি অভিষেক ব্যানার্জি বা তাঁর পরিচিতদের। আমরা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানাচ্ছি, এই তালিকা এক্কেবারে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যেসব ঠিকানা বা সম্পত্তির উল্লেখ করা হয়েছে, তার সঙ্গে অভিষেক ব্যানার্জির মালিকানার দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।”
রাজনৈতিক বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি আরও যোগ করেন, যাদের অভিষেক ব্যানার্জির সম্পত্তি নিয়ে সত্যিই জানার আগ্রহ বা কৌতূহল রয়েছে, তারা যেন নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া তাঁর অফিসিয়াল নির্বাচনী হলফনামা (Affidavit) দেখে নেন। সেখানে আইনের নিয়ম মেনে সমস্ত সম্পত্তির খতিয়ান স্পষ্ট দেওয়া আছে। কাউকে কালিমালিপ্ত বা রাজনৈতিকভাবে কুৎসা করার জন্য এই ধরনের ভুয়ো তালিকা যেন কেউ ব্যবহার না করেন, সেই কড়া অনুরোধও জানান তিনি।
অভ্যন্তরীণ বৈঠক ও একতার বার্তা
সম্প্রতি দলের অন্দরের কিছু ক্ষোভ-বিক্ষোভ, সমীকরণ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের কথা উল্লেখ করে কুণাল বাবু জানান, দলের চেয়ারপার্সন মমতা ব্যানার্জি এবং সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ ধরে অত্যন্ত মনখোলা ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং শঙ্খকমল সাহাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে দলের অন্দরের এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা নিয়ে বাইরে বিস্তারিত কিছু খোলসা করতে চাননি তিনি। কুণাল ঘোষের কথায়, “আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি, তা সম্পূর্ণভাবে আমাদের দল এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা প্রত্যেকেই চাই দল যেন আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হয়। তাই খোলামেলা আলোচনা ও মতবিনিময় হয়েছে। এটা নিয়ে বাইরে কোনও জল্পনামূলক মন্তব্য আমরা করব না।”
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ওঠা ভুয়ো প্রচারের কড়া প্রতিবাদ এবং অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক— এই দুইয়ের মাধ্যমে তৃণমূলের এই প্রথম সারির নেতারা স্পষ্ট করে দিলেন যে, দলের অন্দরে বাইরে থেকে ফাটল দেখানোর চেষ্টা হলেও তাঁরা যেকোনো রাজনৈতিক আক্রমণের মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ এককাট্টা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে দলের নীচের তলার কর্মীদের বিভ্রান্তি দূর করা এবং বিরোধীদের অপপ্রচারের হাওয়া কেড়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।