শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করা ‘আসাম্ভব’! বিধানসভার আপত্তিতে তীব্র জট, এবার কোন পথে তৃণমূল?

শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করা আসাম্ভব জানাল বিধানসভা সচিবালয়, বাড়ছে আইনি জটিলতা!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা তীব্রতর হয়েছে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বিধানসভার সচিবালয়। দলীয় সংগঠন একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না জানিয়ে সচিবালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আইনত আসাম্ভব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
নিয়ম ও পদ্ধতির জটিলতা
বিধানসভা সচিবালয়ের আপত্তির মূলে রয়েছে সংসদীয় নিয়মের লঙ্ঘন। বিধানসভার মুখ্য সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাস এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানান, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে কোনো তারিখ ছিল না, ছিল না কোনো বিধায়কের স্বাক্ষর বা সম্মতিপত্র। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, দলীয় সংগঠন একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তৃণমূলের নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়ককে সম্মিলিতভাবে বৈঠক করে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করতে হবে এবং সেই সভার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অনুলিপি সচিবালয়ে জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠিত এই নিয়ম না মানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে সচিবালয়।
তৃণমূলের পাল্টা কৌশল ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই আইনি ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রণকৌশল বদল করতে বাধ্য হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় দলের মনোনীত নেতা হিসেবে রেখেই প্রোটোকল মেনে নতুন প্রক্রিয়া শুরু করছে তারা। এবার তৃণমূল বিধায়করা সম্মিলিতভাবে তাঁর নাম সমর্থন করে বিধানসভার সচিবের কাছে একটি নতুন আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে, অতীতে কীভাবে বিরোধী দলনেতা নিয়োগ করা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে তৃণমূল ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় উভয়েই আরটিআই (RTI) আবেদন দাখিল করেছেন। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু জানিয়েছেন, বিধায়কদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা পড়ার পর যাচাই করে স্পিকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে। এই প্রক্রিয়ার জটিলতায় বিধানসভার আসন্ন কাজকর্মে বিরোধী দলের ভূমিকা ও সমন্বয় কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও বিধানসভা সচিবালয় তা খারিজ করে দিয়েছে।
- নিয়ম অনুযায়ী দলের ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর ও সম্মতিপত্র ছাড়া শুধু সংগঠনের চিঠিতে এই নিয়োগ বৈধ নয়।
- সচিবালয়ের আপত্তির পর প্রোটোকল মেনে বিধায়কদের স্বাক্ষরসহ নতুন চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল।
- নিয়োগের পূর্ববর্তী নিয়ম জানতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরটিআই (RTI) আবেদন দাখিল করা হয়েছে।