‘টাকা ফেরত না দিলে…’, রাজ্যে পালাবদলের পরেই খুনের হুমকি প্রাক্তন বিধায়ক সোহমকে!

টাকা ফেরত না দিলে শেষ করে দেওয়ার শাসানি, এবার প্রাণনাশের হুমকির মুখে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী!
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই শোরগোল টলিপাড়ায়। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর এবার তীব্র আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, অভিনেতা তথা প্রযোজক সোহম চক্রবর্তী। গত মঙ্গলবার রাতে তাঁকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্রতায় টলিউড অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই তারকা।
পুরনো ছবির অগ্রিম নিয়ে বিবাদ
হুমকির নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক শত্রুতা নয়, বরং জড়িয়ে রয়েছে বিনোদন জগতের একটি পুরনো লেনদেন। জানা গেছে, ২০১৮ সালে পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তী ও প্রযোজক তরুণ দাসের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন সোহম। পরবর্তীতে পরিচালকের আপত্তিতে ছবিটি আটকে যায়। সম্প্রতি দীর্ঘ আট বছর পর প্রযোজকের তরফ থেকে সেই অগ্রিম টাকা ফেরত চাওয়া হলে জটিলতার সূত্রপাত হয়। টলিউডের নিয়ম অনুযায়ী অগ্রিম টাকা ফেরতযোগ্য নয় বলে সোহম তা দিতে অস্বীকার করলে, প্রযোজক তাঁর অফিসে এসে চড়াও হন এবং পরবর্তীতে ফোনে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
প্রভাব ও রাজনৈতিক অবস্থান
অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যে সদ্য ক্ষমতা বদলের সুযোগ নিয়ে এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ব্যবহার করে অভিনেতাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়ার করিমপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনে বাবার অসুস্থতা ও অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, এই ঘটনা সোহমের সুরক্ষাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তবে এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও রাজনীতি থেকে সরছেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এক দশক ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রাক্তন তারকা বিধায়ক।
এক ঝলকে
- অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীকে ফোনে অকথ্য গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি।
- ২০১৮ সালের একটি ছবির ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিবাদের সূত্রপাত।
- ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম মেনে অগ্রিম টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করায় প্রযোজক তরুণ দাসের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ।
- সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে করিমপুর থেকে পরাজিত হলেও রাজনীতি ছাড়ছেন না বলে স্পষ্ট বার্তা সোহমের।