কলকাতায় লুকিয়ে ‘পাক চর’! পাকিস্তানি বউ-বাচ্চা নিয়ে এনআইএ-র জালে কলকাতার জাফর

কলকাতায় লুকিয়ে ‘পাক চর’! পাকিস্তানি বউ-বাচ্চা নিয়ে এনআইএ-র জালে কলকাতার জাফর

কলকাতায় এনআইএর জালে পাকিস্তানি চরের ভয়ংকর কীর্তি ফাঁস!

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) কলকাতা থেকে জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভি নামের এক পাকিস্তানি চরকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারির আগে তার বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছিল এবং তাকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়াও চলছিল। দেশের সুরক্ষাকে বিপন্ন করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং ইউএপিএ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

আর্থিক প্রলোভন ও ওটিপি পাচার

তদন্তে জানা গিয়েছে, জাফর একজন পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করেছে এবং তার সন্তানরাও পাকিস্তানের নাগরিক। ২০০৫ সাল থেকে সে ক্রমাগত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতায়াত করছিল এবং এই যাতায়াতের মাঝেই পাকিস্তানি গোয়েন্দারা আর্থিক প্রলোভন ও পাকিস্তানি নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে চরবৃত্তির জালে জড়ায়। এর আগেও সে একটি চরবৃত্তির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। এবার ভারতের মোবাইল নম্বরের ওটিপি পাকিস্তানি গোয়েন্দা অফিসারকে সরবরাহ করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল জাফর, যা ব্যবহার করে মোতিরাম জাট নামের অন্য এক অভিযুক্তের মাধ্যমে দেশের গোপন তথ্য সীমান্তের ওপারে পাচার করা হতো।

নিরাপত্তায় বড় ধাক্কা ও তদন্তের পরিধি

এই চক্রের মাধ্যমে ভারতের সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য শত্রুপক্ষের হাতে চলে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভুয়ো ওটিপি ব্যবহার করে তৈরি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভারতে অন্যান্য চর ও সন্ত্রাসবাদী চক্রের কাজ সহজ করার চেষ্টা চলছিল। এই আন্তর্জাতিক চরবৃত্তি ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে এনআইএ বর্তমানে জোরকদমে তল্লাশি ও তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রেখেছে।

এক ঝলকে

  • কলকাতার বাসিন্দা জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভিকে দেশের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করল এনআইএ।
  • ধৃত ব্যক্তি এক পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করেছিল এবং ২০০৫ সাল থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যাতায়াত করছিল।
  • পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের ভারতীয় নম্বরের ওটিপি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে তথ্য পাচারে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
  • ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং ইউএপিএ আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *