‘এক পেড় মা কে নাম’: রোমে পরিবেশের বার্তা দিয়ে চারা রোপণ মোদী-মেলোনির

পরিবেশের বন্ধনে এক সুতোয় বাঁধা পড়ল ভারত ও ইতালি! দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের হাত ধরে রোমের মাটিতে রোপিত হলো পরিবেশ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের এক অনন্য প্রতীক। ইতালির রাজধানী রোমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি যৌথভাবে একটি ‘ব্ল্যাক মালবেরি’ বা কৃষ্ণ তুত গাছের চারা রোপণ করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
এই চারা রোপণ কেবল একটি পরিবেশগত কর্মসূচি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য। ভারতে ‘কৃষ্ণ তুত’ নামে পরিচিত এই গাছটির ব্যবহার রান্না ও চিকিৎসাক্ষেত্রে বহু প্রাচীন। গবেষকদের মতে, কৃষ্ণ তুত গাছের বহুমুখী ব্যবহার ভারত ও ইতালির ঐতিহ্যগত মেলবন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। দুই দেশের রান্নার শৈলী এবং ঔষধি ঐতিহ্যের মধ্যে যে সূক্ষ্ম মিল রয়েছে, এই বৃক্ষরোপণ তারই প্রতীকী রূপ।
পরিবেশ সচেতনতায় বিশ্বকে বার্তা
জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে বিশ্ববাসীকে টেকসই জীবনযাত্রার বার্তা দিতেই এই যৌথ উদ্যোগ। ভারতের পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রচারণ কর্মসূচি ‘এক পেড় মা কে নাম’ (মায়ের নামে একটি গাছ)-এর আওতায় এই চারাটি রোপণ করা হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে বৃক্ষরোপণ উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও সুরক্ষিত পৃথিবী গড়ে তোলা।
দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই যৌথ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সবুজ কূটনীতি আগামী দিনে ভারত ও ইতালির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এবং পরিবেশ রক্ষায় বৈশ্বিক স্তরে যৌথভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
এক ঝলকে
- ইতালির রোমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি যৌথভাবে ‘ব্ল্যাক মালবেরি’ বা কৃষ্ণ তুত গাছের চারা রোপণ করেছেন।
- ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই বিশেষ মুহূর্তের তথ্য শেয়ার করেছেন।
- পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই জীবনযাত্রার প্রসারে ভারতের ‘এক পেড় মা কে নাম’ উদ্যোগের আওতায় এই চারা রোপণ করা হয়।
- কৃষ্ণ তুত গাছটি ভারত ও ইতালির রন্ধনশিল্প, ভেষজ চিকিৎসা এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।