শিল্প থেকে গবেষণা, একযোগে কাজ করার বার্তা ভারত-ইতালির

শিল্প থেকে গবেষণা, একযোগে কাজ করার বার্তা ভারত-ইতালির

বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইতালির দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবার এক মজবুত কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের নিয়মিত মতবিনিময় এই সম্পর্ককে আরও গতিশীল করে তুলেছে। মূলত একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবন, জ্বালানি রূপান্তর এবং কৌশলগত সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে পাখির চোখ করে দুই দেশ তাদের বহুমাত্রিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিল্প ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন

উৎপাদন ক্ষেত্রে ইতালির বিশ্বমানের দক্ষতা ও সুপার কম্পিউটারের মতো উন্নত প্রযুক্তির সাথে ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশ ও বিপুল স্টার্টআপ সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটতে চলেছে। ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ইতালির ‘মেড ইন ইতালি’ কর্মসূচির যৌথ প্রয়াসে দুই দেশের শিল্পমহলে পারস্পরিক বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে উভয় দেশে দুই পক্ষের এক হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের উৎপাদন খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাণিজ্যিক লক্ষ্য ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও মানবকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

মহাকাশ গবেষণা ও সাইবার নিরাপত্তার পাশাপাশি সমুদ্রপথের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনেও যৌথভাবে কাজ করবে ভারত ও ইতালি। ভারতের ‘বসুধৈবকুটুম্বকম’ এবং ইতালির ‘রেনেসাঁ’র মানবতাবাদী আদর্শকে ধারণ করে এই দুই প্রাচীন সভ্যতা ডিজিটাল যুগে একযোগে বিশ্বমঞ্চে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে।

এক ঝলকে

  • ২০২৯ সালের মধ্যে ভারত ও ইতালির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
  • প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
  • বর্তমানে দুই দেশে একে অপরের এক হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণা ও সাইবার অপরাধ দমনে যৌথভাবে কাজ করবে দুই দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *