নবান্নের কড়া বার্তা, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেই কড়া শাস্তির মুখে সরকারি আধিকারিকরা!

নবান্নের কড়া বার্তা, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেই কড়া শাস্তির মুখে সরকারি আধিকারিকরা!

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো রাজ্য প্রশাসনের অলিন্দে তথ্যের অবাধ যাতায়াত রুখতে এক কঠোর পদক্ষেপ। সরকারের কর্মিবিনিয়োগ দফতরের তরফে জারি করা এক নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যম বা কোনো জনসমক্ষে প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস অথবা মন্তব্য করা যাবে না। মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের সই করা এই সার্কুলারটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত দফতর, কমিশনার, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সরকারি কর্মচারীর সংবাদমাধ্যমে অনভিপ্রেত মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ এবং অতি সংবেদনশীল প্রশাসনিক তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে প্রকারান্তরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের যোগাযোগের রাশ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে নিল নবান্ন।

আওতায় আইএএস থেকে পুরকর্মী, সবার জন্য এক নিয়ম

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই কড়া নিয়ম শুধু শীর্ষস্তরের আমলাদের জন্যই নয়, বরং রাজ্যের সমস্ত স্তরের কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিকদের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছেন সাধারণ সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বোর্ড, পুরসভা, পুরনিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীরাও। বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী কোনো মিডিয়া প্রোগ্রাম বা বেসরকারিভাবে স্পনসরড অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি সংবাদপত্র, সাময়িকী বা রেডিওর মতো গণমাধ্যমে কোনো লেখালেখি বা বক্তব্য পেশের ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

শৃঙ্খলা রক্ষা বনাম মত প্রকাশের অধিকারের সংঘাত

এই নির্দেশিকার জেরে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো। বিশেষ করে কোনো বক্তব্য বা প্রকাশনা যদি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে তা বড় অপরাধ ও শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য হবে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি স্তরে তথ্যের অপব্যবহার এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব হবে। তবে এর একটি নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে, যেখানে কর্মচারীদের স্বাধীন মত প্রকাশের পরিধি অনেকটাই সংকুচিত হয়ে যাবে এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর পথ কঠিন হবে। রাজ্য প্রশাসন অবশ্য সাফ জানিয়েছে, এই আচরণবিধি কঠোরভাবে মনিটর করা হবে এবং নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *