তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দেশ, এক ধাক্কায় ৫৭ দিনের লম্বা ছুটির কবলে রাজ্যের স্কুলগুলো!

দেশজুড়ে ক্রমে চড়ছে পারদের কাঁটা। মাঝে টুকটাক বৃষ্টি স্বস্তি দিলেও গরমের দাপট কমার কোনো লক্ষণ নেই। তীব্র রোদ আর অসহ্য তাপপ্রবাহের কারণে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের একাধিক রাজ্যে গরমের ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোথাও এক ধাক্কায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৫৭ দিন করা হয়েছে, আবার কোথাও পরিস্থিতি বুঝে বাড়ানো হয়েছে ছুটির সময়সীমা।
তীব্র গরমে ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি
আগের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আগামী ১১ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৩১ দিনের সেই ছুটি এক লাফে বাড়িয়ে ৫৭ দিন করা হয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, তীব্র গরমের কারণে দিল্লি-এনসিআর এবং হরিয়ানার স্কুলগুলোতেও আগামী ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই পথ অনুসরণ করে বিহার, উত্তর প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশাতেও জুনের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলার সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে আপাতত ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে এবং গরমের তীব্রতা না কমলে এই ছুটি আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত রাজস্থানে, শুরু তীব্র বিতর্ক
যখন দেশের অধিকাংশ রাজ্য পড়ুয়াদের সুরক্ষায় ছুটি বাড়াচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ বিপরীত পথ হেঁটেছে রাজস্থান। শিক্ষাবর্ষ সুশৃঙ্খলভাবে এবং সময়মতো পরিচালনা করার যুক্তি দেখিয়ে সেখানে গরমের ছুটি এক ধাক্কায় প্রায় ১০ দিন কমিয়ে দিয়েছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি, মে ও জুন মাসে রাজস্থানের তাপমাত্রা অনেক সময় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই চরম আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শিশুরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। ফলে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষক মহল।