টলিউডে এবার শুদ্ধিকরণের হাওয়া, টেকনিশিয়ানদের চোখের জলে কাটল ফেডারেশনের জটিলতা!

টলিউডে এবার শুদ্ধিকরণের হাওয়া, টেকনিশিয়ানদের চোখের জলে কাটল ফেডারেশনের জটিলতা!

রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর এবার খোলনলচে বদলে যাচ্ছে টলিপাড়াও। দীর্ঘদিনের টালবাহানা আর অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে মুখোমুখি বসলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ ও স্টুডিওপাড়ার ২৬টি গিল্ডের ৩২ জন প্রতিনিধি। তবে বিজেপির বিধায়ক হিসেবে নয়, ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের চেনা মুখ হিসেবেই বুধবার কলাকুশলীদের মুখোমুখি হন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনলেন প্রতিটি টেকনিশিয়ানের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও আশঙ্কার কথা। বৈঠক শেষে রুদ্রনীল স্পষ্ট জানান, সমস্ত অভাব-অভিযোগের বিবরণ সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে।

অতীতের তিক্ততা ভুলে লক্ষ্য এবার দুর্নীতিমুক্ত টলিউড

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই টলিপাড়ার ফেডারেশনকে ঘিরে নানামুখী গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে দুর্নীতি, একনায়কতন্ত্র ও পক্ষপাতিত্বের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে জোরালোভাবে। এমনকি ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় জয়ী বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীকে সংবর্ধনা দেওয়ার সময় ফেডারেশনের অফিস গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দেয়।

এই প্রসঙ্গে রুদ্রনীল স্পষ্ট জানান, ফেডারেশন থাকবে কি থাকবে না, তা ঠিক করার ক্ষমতা তাঁর বা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী কিংবা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তবে নতুন সরকার টলিউডকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে চায়। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ রয়েছে, আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রিতে শুধুই সুস্থ পরিবেশ ও কাজ হবে, কোনো রাজনৈতিক বিভাজন চলবে না। আগামীতে ফেডারেশন ও বিভিন্ন গিল্ডের প্রতিনিধি নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ব্যালটের মাধ্যমে।

কাজের অধিকার ফেরানোর দাবি ও কলাকুশলীদের কান্না

এদিনের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। প্রযোজকদের পক্ষে হাজির ছিলেন অশোক ধানুকা, নিসপাল সিংহ রানে, ফিরদৌসল হাসানের মতো ব্যক্তিত্বরা। বৈঠকে সিনেমা ও সিরিজ তৈরির কারিগরদের মূল দাবি ছিল একটাই— রাজনৈতিক মতভেদের কারণে যেন আর কারও কাজ বন্ধ না হয় এবং কাউকে যেন প্রকাশ্যে হেনস্থার শিকার হতে না হয়। অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও স্পষ্ট জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শ ব্যক্তিগত হতেই পারে, কিন্তু তার প্রভাব যেন কাজের উপর না পড়ে।

বৈঠকের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন বেশ কয়েকজন প্রবীণ কলাকুশলী নিজেদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রূপসজ্জাশিল্পী সিমরন পাল সহ একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক মতের অমিল থাকার কারণে তাঁদের দিনের পর দিন হুমকি, অপমান এবং কাজ থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। কেউ কেউ এমনকি প্রাণনাশের হুমকির কথাও প্রকাশ্যে এনেছেন। এই বৈঠক নিঃসন্দেহে টলিউডে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে শিল্পীরা আবার স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *