নারী সুরক্ষায় নয়া দিগন্ত! ১ জুন থেকে সরকারি বাসে বিনামূল্যে সফর করবেন রাজ্যের মহিলারা

পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের যে কোনো প্রান্তে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা। বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পরিবহণ দফতর ইতিমধ্যেই এর বিস্তারিত নির্দেশিকা ও বিধিমালা প্রস্তুত করেছে। দেশের অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে এই সুবিধা আগে থেকে থাকলেও, বাংলায় এবারই প্রথম এমন জনমুখী ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে।
পরিচয়পত্র যাচাই ও শূন্য মূল্যের টিকিট
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন থেকে এই সুবিধা পেতে হলে মহিলা যাত্রীদের পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে। বাসে ওঠার পর ভোটার কার্ড বা অন্য কোনো সচিত্র সরকারি পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। পরিচয় যাচাইয়ের পর বাসের কন্ডাক্টর সংশ্লিষ্ট মহিলা যাত্রীকে অশোক স্তম্ভ খচিত একটি ‘শূন্য টাকা’ মূল্যের বিশেষ টিকিট প্রদান করবেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে অত্যন্ত মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য আগামী ১ জুনের আগেই সরকারি বাসের চালক ও কন্ডাক্টরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিশেষ কার্ডের পরিকল্পনা ও বাসের আধুনিকীকরণ
প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে শূন্য মূল্যের টিকিটের মাধ্যমে যাতায়াত করা গেলেও, পরবর্তীতে মহিলাদের জন্য একটি বিশেষ কার্ড চালু করার দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই কার্ডটি দেখালেই মহিলারা সরাসরি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই কার্ডগুলো স্থানীয় বিডিও অফিস, এসডিও অফিস কিংবা পুরসভা থেকে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারি এসি, নন-এসি এবং দূরপাল্লার যাবতীয় সরকারি বাসেই এই নিখরচায় সফরের সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি, রাজ্যের বর্তমান সচল ২৩০০টি সরকারি বাসের বহর বাড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন ইলেকট্রিক বাসের টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে পরিবহণ দফতর।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
পরিবহণ দফতরের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, শুধুমাত্র কলকাতা শহরেই প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার এবং সমগ্র রাজ্য মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ৪ লক্ষ মহিলা সরকারি বাসে যাতায়াত করেন। এই বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী, ছাত্রী ও সাধারণ মহিলার দৈনিক যাতায়াত খরচ সম্পূর্ণ মকুব হওয়ার ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সঞ্চয় বাড়বে। একইসঙ্গে, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজলভ্য হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও স্বনির্ভরতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই বিপুল ভরতুকির জেরে রাজ্য কোষাগারের ওপর যে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা সামাল দেওয়া এবং যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে বাসের সংখ্যা বজায় রাখাই হবে আগামী দিনে প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।