উত্তরবঙ্গের পর এবার জঙ্গলমহল, আজ দুর্গাপুরে ৫ জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে মেগা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

উত্তরবঙ্গ সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জঙ্গলমহল ও রাঢ়বঙ্গের দিকে নজর দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরবঙ্গের ‘অভিমান’ দূর করার বার্তা দেওয়ার পর, আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এক মেগা প্রশাসনিক বৈঠকে বসছেন তিনি। দুই বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া— এই পাঁচ জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দুর্গাপুরে এটিই তাঁর প্রথম সফর, যা নিয়ে জেলা প্রশাসনে চরম ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উন্নয়ন ও কড়া বার্তার জোড়া কৌশল
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও সম্ভাব্য প্রশাসনিক রদবদলের ইঙ্গিত। দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে দুপুর দুটো থেকে শুরু হতে চলা এই বৈঠকে পাঁচ জেলার জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরাও। মূলত বেআইনি কয়লা, বালি ও পাথর খাদান বন্ধে কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি শিল্পায়নে গতি আনার বিষয়ে আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় ক্ষোভ প্রশমন এবং প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা আনাই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।
ব্যস্ত সূচি শেষে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা
আজকের দিনটিতে মুখ্যমন্ত্রীর সূচি অত্যন্ত ঠাসা। সকালে বেলুড় মঠে পুজো দিয়ে দিন শুরু করার পর, হাওড়া জেলা শাসক কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারবেন তিনি। সেখান থেকে দমদম হয়ে অন্ডাল বিমানবন্দর পৌঁছাবেন এবং ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে দুর্গাপুরে প্রবেশ করবেন। দুর্গাপুরের এই হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক শেষ করেই অন্ডাল থেকে সরাসরি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে তাঁর চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে চলেছে।