তীব্র দাবদাহের মাঝেই স্বস্তির খবর, নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে পা রাখছে বর্ষা

তীব্র গরমে পুড়ছে দেশের একটা বড় অংশ। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের বান্দায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে এবং দিল্লিতেও তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৪৪ থেকে ৪৫ ডিগ্রির ঘরে। রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশেও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাসের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমন এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিয়ে সুখবর শোনাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)।
আইএমডি জানিয়েছে, ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিক সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই দেশে প্রবেশ করছে। আগামী ২৬ মে নাগাদ কেরল উপকূলে পৌঁছে যেতে পারে বর্ষা, যার স্বাভাবিক সময়কাল সাধারণত ১ জুন। কেরলে বর্ষা প্রবেশের পর তা ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে। আগামী ২ থেকে ৫ জুনের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও মুম্বইতে বর্ষা পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে উত্তর ভারতের তীব্র গরমের এলাকাগুলোতেও বৃষ্টির স্বস্তি নিয়ে আসবে।
স্বস্তির আবহে কম বৃষ্টির আশঙ্কা
আগেভাগে বর্ষা আসার খবরটি স্বস্তিদায়ক হলেও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরলে দ্রুত বর্ষা নামার অর্থ এই নয় যে সারা দেশে খুব দ্রুত বা বেশি বৃষ্টি হবে। কেরলে বর্ষা নামার পর বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের বায়ুর চাপের ওপর ভিত্তি করে মৌসুমি বায়ুর গতি হ্রাস-বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
একই সঙ্গে আইএমডি এবং বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট ওয়েদার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বর্ষায় দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। আইএমডি-এর অনুমান অনুযায়ী, এ বছরের বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং স্কাইমেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী তা গড়ের প্রায় ৯৪ শতাংশ হতে পারে।
এল নিনোর বৈরী প্রভাব
চলতি বছরে কম বৃষ্টিপাতের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রক্রিয়া ভারতের মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী জুলাই ও অগাস্ট মাসে মৌসুমি বায়ু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি এল নিনোর প্রভাব আরও বেশি স্পষ্ট হতে পারে, যা সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।