মুখ্যমন্ত্রী হয়েই প্রথমবার বেলুড় মঠে শুভেন্দু অধিকারী, প্রেসিডেন্ট মহারাজের পা ছুঁয়ে নিলেন আশীর্বাদ!

রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার আধ্যাত্মিক চর্চায় মন দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুসৃত পথেই বৃহস্পতিবার সকালে তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র বেলুড় মঠ পরিদর্শনে যান। সেখানে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রেসিডেন্ট মহারাজ গৌতমানন্দজির পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই আচমকা মঠ সফর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন হাওড়ায় পূর্বনির্ধারিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকের আগেই মুখ্যমন্ত্রী বেলুড় মঠে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঠে পৌঁছালে সন্ন্যাসীরা মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। এরপর শুভেন্দু অধিকারী মূল শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরে গিয়ে আরতি দর্শন ও পুজো দেন। সেখান থেকে স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ঘর, স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির এবং শ্রী শ্রী মা সারদাদেবীর মন্দিরে গিয়ে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও প্রণাম করেন। সবশেষে তিনি মঠের অশীতিপর প্রেসিডেন্ট মহারাজের সঙ্গে একান্তে বেশ কিছু সময় কাটান এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও সুশাসনের বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। বেলুড় মঠের এই সফর শেষ করেই তিনি সরাসরি হাওড়ার শরৎ সদনের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে জেলা স্তরের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন। এরপর দুর্গাপুরেও তাঁর আরেকটি প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের শাসনভার গ্রহণের পরপরই এই মঠ সফরের পেছনে গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনের আত্মিক যোগের কথা সর্বজনবিদিত। শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ যেমন একদিকে তাঁর ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক অনুসরণের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে তেমনই প্রশাসনিক কাজের শুরুতে একটি ইতিবাচক, সংযত ও ঐতিহ্যমনস্ক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রয়াস। ক্ষমতার অলিন্দে থেকেও সনাতন সংস্কৃতির প্রতি এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও সুশাসনের আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।