মাদ্রাসায় এবার বাধ্যতামূলক বন্দে মাতরম, সরকারি নির্দেশে আপত্তি নেই শিক্ষক সংগঠনের

রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে প্রতিদিনের প্রার্থনাসভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা নিয়ে এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক ও সামাজিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর থেকে জারি করা এক নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতি এবং শিক্ষা মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। ১৯ মে ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষার ডিরেক্টরেট এই ঐতিহাসিক নির্দেশিকাটি জারি করে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে সাধারণ প্রার্থনার পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে।
সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত মাদ্রাসা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের
এই নতুন সরকারি নির্দেশিকাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মীদের একাংশ। ওয়েস্ট বেঙ্গল মাদ্রাসা স্টাফ অ্যাশোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির সভাপতি ফিরোজউদ্দিন সাকি এই বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে দেশে তাঁরা বাস করেন, সেখানকার আইন ও কানুন মেনে চলাই তাঁদের কাছে ধর্মীয় নির্দেশ। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্তে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তিনি আরও যোগ করেন, প্রগতিশীল ও শিক্ষিত মুসলিমদের কাছে এটি কোনও সমস্যাই নয়। আগামী ১ জুন গরমের ছুটির পর রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি খুললেই প্রথম দিন থেকে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে। এতদিন মাদ্রাসার প্রার্থনাসভায় ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’ গাওয়া হত, এবার থেকে তার পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গানটিও গাওয়া হবে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক তরজা
নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই নিয়ম শুধুমাত্র সাধারণ মাদ্রাসার জন্য নয়, বরং রাজ্যের অধীনস্থ সরকারি মডেল মাদ্রাসা (ইংরেজি মাধ্যম), সরকার অনুমোদিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা, এমএসকে ও এসএসকে এবং সমস্ত স্বীকৃত বেসরকারি মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে। আগের প্রচলিত নিয়ম বাতিল করে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করার ফলে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষার বাতাবরণে একটি বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমিধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ অভিযোগ তুলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনা না করেই তড়িঘড়ি এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ছুটির পর মাদ্রাসা খোলার প্রথম দিন থেকেই এই নতুন নিয়ম ঘিরে রাজ্য জুড়ে বাড়তি নজর থাকবে।