হাওড়ার হাল ফেরাতে তৎপরতা শুরু! শুভেন্দুর পরিকল্পনায় কি বদলে যাবে ভোটের সমীকরণ?

দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মুখ দেখতে চলেছে হাওড়াবাসী। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া এবং বালিতে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত পুরনিগমের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। হাওড়ায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই মেগা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা নাগরিক পরিষেবা গতি পাবে এবং হাওড়ার বেহাল দশা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ও ভোটের পরিকল্পনা
কলকাতার একেবারে লাগোয়া হওয়া সত্ত্বেও হাওড়া দীর্ঘদিন ধরে পুরভোট থেকে বঞ্চিত। প্রায় সাড়ে সাত বছর আগে হাওড়া পুরনিগমের মেয়াদ শেষ হলেও সেখানে নতুন করে কোনো নির্বাচন হয়নি। এত দিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া, কেবল প্রশাসক দিয়েই জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল এই গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমটি। ফলে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার বা তা দ্রুত সমাধান করার কেউ ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পৌরসভার প্রকৃত নির্বাচন না হলে নাগরিকদের ঠিকঠাক পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই বছরের শেষেই এখানে নির্বাচন করানোর বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নতুন সরকার।
পরিষেবার বেহাল দশা এবং পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘অ্যাকশন’
দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় হাওড়ার নিকাশি ব্যবস্থা, আবর্জনা অপসারণ এবং পানীয় জলের অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে উঠেছিল। চারদিকে আবর্জনার স্তূপ জমে থাকায় শহরটি আক্ষরিক অর্থেই তার সৌন্দর্য ও উপযোগিতা হারিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন যে, নিকাশি থেকে শুরু করে টয়লেট সিস্টেম ও পানীয় জল—নাগরিক পরিষেবার সমস্ত আধুনিক সুবিধা এবার চালু করা হবে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর হাওড়া পুরনিগমের শীর্ষ স্তরে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। পুর কমিশনার প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর জায়গায় নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১১ ব্যাচের আইএএস তথা হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়াকে। ভোট না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীনভাবে শহরের পরিষেবার বিষয়টি দেখভাল করবেন। পাশাপাশি বেআইনি নির্মাণ ও দখলদারি হঠাতে শহরজুড়ে প্রশাসনের কঠোর ‘বুলডোজার অভিযান’ শুরু হয়েছে, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে আবর্জনাময় হাওড়ার ভোল বদলে এবার আর কোনো আপস করা হবে না।