বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে রেকর্ড লাফ, স্বস্তিতে সাধারণ গৃহস্থ

মাসের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল দেশের ব্যবসায়িক ক্ষেত্র। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একধাক্কায় প্রায় হাজার টাকা বাড়ানো হলো ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। ১ মে থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম একলাফে ৯৯৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই চরম মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হলো, ১৪.২ কেজির ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (আইওসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন মূল্য নির্ধারণের পর কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৯৯৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,২০২ টাকায়। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের প্রায় ৮ কোটি গ্রাহকের ব্যবহৃত ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯ টাকাই থাকছে। এছাড়া পেট্রল, ডিজেল এবং পিডিএস ব্যবস্থার কেরোসিনের দামও স্থিতিশীল রাখা হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও খাতভিত্তিক প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি ও জ্বালানি সংকটের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই মূলত শিল্পক্ষেত্রের ওপর এই বাড়তি দামের বোঝা চাপানো হয়েছে। আইওসি-র তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের ১৬ শতাংশ—যা মূলত শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত, সেই অংশের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক ও বাল্ক এলপিজি এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ব্যবহৃত এটিএফ (ATF) অন্তর্ভুক্ত। বিপরীতে, মোট ব্যবহারের প্রায় ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে দাম কিছুটা কমানো হয়েছে এবং পেট্রল-ডিজেলসহ প্রায় ৮০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সংকটের পূর্বাভাস
গত মাসেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কো ম্পা নিগুলো ১৯ কেজি ও ৫ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছিল। এবার নতুন করে প্রায় হাজার টাকা দাম বাড়ায় হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্যাটারিং ব্যবসা এবং ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলোর উৎপাদন খরচ একলাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে। বাণিজ্যিক গ্যাসের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে তৈরি খাবার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিষেবার খরচ বাড়তে পারে, যা পরোক্ষভাবে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটেই টান ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঘরোয়া রান্নার গ্যাস ও গণপরিবহনের জ্বালানি সুরক্ষিত থাকায় আপাতত বড় ধরনের সামাজিক আর্থিক চাপ এড়ানো গেছে।