জ্বালানি বাঁচাতে বাসে চড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে সরকারি কর্তারা!

দুর্গাপুরে পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলাকে নিয়ে প্রথম প্রশাসনিক ও উন্নয়ন বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। সরকারি গাড়ির অপচয় ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ও বিডিওরা আলাদা গাড়ির পরিবর্তে একসঙ্গে দুটি বাসে চড়ে সভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। পুলিশের আধিকারিকরাও তাঁদের ব্যক্তিগত বা সরকারি গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে একইভাবে যাত্রা করেছেন।
দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই বৈঠকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম—এই পাঁচ জেলার সাধারণ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকছেন। বিডিও, ওসি, আইসি ছাড়াও বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক ও সাংসদেরা।
জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি নির্দেশিকা
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে জাতীয় ও রাজ্য স্তরের সুনির্দিষ্ট বার্তা। সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পরেই চলতি মাসের ১৮ তারিখ রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রোধ এবং যাতায়াত খরচ কমাতে সমস্ত জেলার প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন মূলত সেই নির্দেশিকা কঠোরভাবে পালন করতেই এই যৌথ বাস যাত্রার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা স্তরের এই সাশ্রয়ী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কঠোর আর্থিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক থেকে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনের বিষয়ে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক খরচ কমাতে মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে সাত দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিটি জেলা প্রশাসন ও সরকারি বিভাগকে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের জন্য তাৎক্ষণিক, মধ্যবর্তী এবং দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকার ফলে আগামী দিনে সরকারি স্তরে জ্বালানি ও প্রশাসনিক খরচে বড় ধরনের সাশ্রয় ঘটবে এবং সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।